পটুয়াখালীর বাউফলে খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিখোঁজ আলম ফকিরকে (৪৮) ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আলম ফকিরের হতে পারে। তবে তার পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ৩ টার দিকে বাউফল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার এলাকার একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলম ফকির গত ৫–৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। আলম ফকির স্থানীয় বাসিন্দা মুজাফর গাজীর ছেলে। তিনি দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার তৃতীয় স্ত্রী ফারজানা বেগমের সঙ্গে বসবাস করতেন। সেখান থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) পরিবারের পক্ষ থেকে বাউফল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আলম ফকিরের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এবং খালে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় নিয়ে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ফারজানা বেগমকে ঘিরে অভিযোগ উঠলেও তা এখনো প্রমাণিত নয়।
আলম ফকিরের বড় স্ত্রী পিয়ারা বেগম বলেছেন, মরদেহটির সাথে যে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পাওয়া সেগুলো আমার স্বামীর । ফারজানা আমার স্বামীকে হত্যা করে খালে ফেলে দিয়েছে। ফারাজানার বাসায় তিনি থাকতেন ।
আলম ফকিরের বোন রুনু বেগম বলেছেন, খালে পাওয়া মরদেহের মুখের পাশ ও কাঁধের অংশ আমার ভাইয়ের মতো। আমার আপন ভাই, আমি দেখে চিনতে পারি। ছবি দেখে চিনেছি। ফারজানার কাছে আমার ভাই ছিল। আমার ভাই জীবিত অথবা মৃত ফেরত চাই।
তবে ফারজানা বেগম বলেছেন, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আলম ফকির। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। উদ্ধার হওয়া মরদেহের হাতের আঙুলের সঙ্গে তার স্বামীর মিল খুঁজে পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে মরদেহের সঙ্গে পাওয়া লুঙ্গি ও গেঞ্জি তার স্বামীর নয় বলে দাবি করেন ফারজানা।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, নিখোঁজ আলম ফকিরের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আলম ফকিরের হতে পারে। মরদেহটির সুরতহাল করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নৌ-পুলিশ তদন্ত করছে।
কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মনিরুজ্জামান সরদার বলেছেন, নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা সোরোয়ার হোসেন মরদেহটির সুরতহাল করেন। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হিসেবে তদন্ত শুরু করা হয়। পরে আলম ফকিরের পরিবারের সদস্যরা মরদেহের সঙ্গে পাওয়া পোশাক দেখে সেটি তার বলে শনাক্ত করার দাবি করেন।
প্রধান সম্পাদক কামরুজ্জামান বাচ্চু
আরিফুল ইসলাম সাগর কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
ঠিকানাঃ গোলাবাড়ি, বাউফল ,পটুয়াখালী
ইমেইলঃ khoborbauphalnews@gmail.com
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত