পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মানুষ। তবে ঘরে ফেরার এই আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা।
গত কয়েক দিনে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও সংযোগ সড়কে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে লঞ্চ বা বাসে এসে শেষ রাতে কিংবা ভোরের দিকে অভ্যন্তরীণ সড়ক দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তারা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহী ও অটোরিকশার যাত্রীরাই বেশি লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। কালাইয়া–বাউফল সড়ক, বগা–বাউফল সড়ক এবং কাছিপাড়া ও কালিশুরী সংলগ্ন নির্জন এলাকাগুলোতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ছিনতাইকারীরা পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে।
ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা এক পোশাক শ্রমিক জানান, সারা বছরের জমানো টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ভোরে কালিশুরী এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয় যুবক তাদের রিকশা থামিয়ে ছুরি দেখিয়ে তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এছাড়া শনিবার ভোর রাতে পৌর শহরের হাসপাতালের সামনে আরও একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। দুই ছিনতাইকারী দেশীয় অস্ত্রের মুখে কয়েকজন ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এর আগে শহরের বাংলাবাজার এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর ঈদের আগে ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। বাজার ও ব্যস্ত মোড়গুলোতে পুলিশের টহল থাকলেও গ্রামাঞ্চলের নির্জন সড়কগুলো এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক ভুক্তভোগী হয়রানির আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ করতেও আগ্রহ দেখান না।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। রাতে চলাচলের সময় নির্জন বা অপরিচিত সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত নিকটস্থ পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধান সম্পাদক কামরুজ্জামান বাচ্চু
আরিফুল ইসলাম সাগর কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
ঠিকানাঃ গোলাবাড়ি, বাউফল ,পটুয়াখালী
ইমেইলঃ khoborbauphalnews@gmail.com
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত