বাউফলে চলমান ২০২৫ সালের এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি (বিএম) এবং এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র খোলার নিয়ম ভঙ্গ করে প্রশ্নপত্র খোলা ও বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র থানা লকার থেকে উত্তোলন ও বিতরণ করার সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি।
জানা গেছে, বাউফল উপজেলার ইউএনও কার্যালয়ের দুই স্টাফ ইয়াকুব আলী ও মো. শাহাবুদ্দিন মুন্সি ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াই নিয়ম ভঙ্গ করে প্রশ্নপত্র লকার থেকে উত্তোলন ও বিতরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, পলিমারে সিলগালা করা প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পাঠানোর পর সেট কোড অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্যাকেট খোলার নিয়ম থাকলেও এখানে সব সেট কোডের খাম আগেই থানায় খোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর ফলে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছে ইউএনও ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু প্রতিষ্ঠান। যেমন, ২০২৪ সালে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী পাস করা কারখানা দারুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায় ২০২৫ সালে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
একইভাবে, ধানদী কামিল মাদ্রাসায় ২০২৪ সালে যেখানে পাসের হার ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ এবং কোনো জিপিএ-৫ ছিল না, সেখানে ২০২৫ সালে পাসের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ শতাংশে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন।
প্রশ্নপত্র খোলার নিয়ম লঙ্ঘন ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অংশ হিসেবে এসব কেন্দ্রসমূহে ইউএনও কার্যালয়ের স্টাফদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। যেমন, দাখিল পরীক্ষা ২০২৫-এ কালিশুরী কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন ইয়াকুব আলী এবং ধানদী কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন মো. শাহাবুদ্দিন মুন্সি।
এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি ইউএনও’র সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
একই কথা বলেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর কামরুল আহসান, “বিষয়টি আমি জেনেছি। এখনই ইউএনও’র সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
প্রধান সম্পাদক কামরুজ্জামান বাচ্চু
আরিফুল ইসলাম সাগর কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
ঠিকানাঃ গোলাবাড়ি, বাউফল ,পটুয়াখালী
ইমেইলঃ khoborbauphalnews@gmail.com
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত