সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকেও সাধারণ জীবনযাপন করছেন বাউফলে কনকদিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল করিম ফরিদ ও সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল জলিল। এখনো সাইকেল চালিয়েই তাঁরা সাংগঠনিক ও পেশাগত কাজ করেন। এমনকি তাঁদের বাড়িতে প্রবেশের রাস্তাও এখনো কাঁচা, রয়েছে মাথা গোজার মত টিনের চাল।
মাওলানা আব্দুল করিম ফরিদ জানান, ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে বেশি প্রয়োজনে অন্য মানুষ ও এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করে তাঁর সংগঠন। ইউনিয়নের বিভিন্ন বরাদ্দ মূলত ওয়ার্ড সভাপতিদের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় সঠিকভাবে ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ বরাদ্দ বণ্টনের চেষ্টা করেন বলেও তিনি জানান।
০৯ নং ওয়ার্ডে নিজের পুরোনো বাড়িতে ইউনূস সরকারের আমলে মসজিদে সরকারি টিউবওয়েল স্থাপনে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিউবওয়েলটি মসজিদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মসজিদে মুসল্লিরা পানির খুব কষ্ট করছিলেন, তাই সংগঠনের সকলের পরামর্শক্রমে সেটা দেওয়া হয়েছে এবং প্রাপ্য হিসেবে উক্ত মসজিদের ইমাম মসজিদের ভাতা প্রাপ্তির জন্য ইসলামী ফাউন্ডেশনে আবেদন দিয়েছেন। তবে তিনি বর্তমানে ওই বাড়িতে বসবাস করেন না বলে জানান। এছাড়াও কনকদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রচেষ্টায় টিউবওয়েল বসানো হয়েছে, সামনে আরও বসানোর কার্যক্রম রয়েছে এবং মসজিদ সংস্কারের জন্য দশটি মসজিদের তালিকা দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও মসজিদের তালিকা পাঠানো হবে। বর্তমানে ০৮ নং ওয়ার্ডের যে বাড়িতে বসবাস করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও সেখানে সরকারি টিউবওয়েলের জন্য তিনি অনেক চেষ্টার পরেও পাননি। শুধু তিনি জামায়াত করার কারণে তাঁকে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। পরে ইউনূস সরকারের আমলে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সম্পূর্ণ প্রাইভেটভাবে তাঁর বসতবাড়িতে টিউবওয়েল স্থাপন করেন।
নিজের বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা এখনো কাঁচা থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এমপি মহোদয়ের পক্ষ থেকে ইট সোলিং ও মাটির কাজের জন্য বেশ কয়েকটি রাস্তা করা হয়েছে। আমি মনে করি, আমার বাড়ির রাস্তার থেকেও সেগুলো অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে, তাই তাদেরকে দিয়েছি। ইতিমধ্যে কনকদিয়ার চারটি পিসি ঢালাই রাস্তা এমপি মহোদয়ের প্রচেষ্টায় সংস্কারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে; আরও বেশ অনেকগুলো রাস্তার উন্নয়নের জন্য এমপি মহোদয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা তিনি জানান।
মাওলানা আব্দুল করিম ফরিদ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এমপি মহোদয় তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদে বাউফলের কোনো রাস্তা কাঁচা রাখবেন না। পর্যায়ক্রমে সব রাস্তা উন্নয়নের আওতায় আসবে, ইনশাআল্লাহ। মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ ও রাস্তাঘাটসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাঁর প্রতি আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে।”
ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল জলিল বলেন, তাঁদের বাড়িতেও প্রবেশের রাস্তার সমস্যা রয়েছে। তবে যাঁদের প্রয়োজন বেশি, তাঁদের সহযোগিতা পাওয়াই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
মাওলানা আব্দুল করিম ফরিদের পরিবারের সদস্যরাও সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত। তাঁর বড় ছেলে শিবিরের সাবেক নেতা মাওলানা এস এম আব্দুল্লাহ শিবলী বর্তমানে বাউফল উপজেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি, ছোট ছেলে এম সাইফুল্লাহ শোয়াইব ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরীর একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং স্ত্রী বেগম ফাতিমা ফরিদী কনকদিয়া ইউনিয়ন মহিলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি।
সাইকেলে যাতায়াতের বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করে বলা হয়, আপনার দলের অনেকেই তো সাংগঠনিকভাবে মোটরসাইকেলের সুবিধা পেয়েছেন, আপনি সেরকম সুবিধা চান কি না।
তিনি বলেন, আমার থেকে অনেক যোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল রয়েছেন, যাঁদের এরকম সহযোগিতা দরকার। বিশেষ করে আমি মনে করছি না, আমার এরকম সহযোগিতা দরকার। আমি নিয়মিত সাইকেলে যাতায়াত করি, এর ফলে আমার শরীরের উপকার হয় এবং এ নিয়ে আমার মধ্যে কোনো প্রকার হীনম্মন্যতা নেই, আলহামদুলিল্লাহ। বিশেষ করে আমার দল এমন একটি দল, যে দলের এমপিরা এখনো কৃষিকাজ করছেন, আমাদের এমপি ডক্টর মাসুদ ভাইও সাধারণ জীবন যাপন করেন সেখানে আমি তো ক্ষুদ্র একজন কর্মী মাত্র।
নাম না বলার শর্তে এক কর্মী বলেন, এরকম ত্যাগীদের প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য শুধু বিরোধী সংগঠনের লোক নয়, কিছু সুযোগসন্ধানী সুবিধাভোগী লোক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কনকদিয়া ইউনিয়নসহ বাউফলের বিভিন্ন ইউনিয়নের জামায়াতের ত্যাগী নেতারা সৎ ও নীতিবান হওয়ায় এসব সুযোগসন্ধানী হালে পানি পাচ্ছেন না।
জানা যায়, মাওলানা আব্দুল করিমের বড় ছেলে মাওঃ এস ডি আব্দুল্লাহ শিবলী তাঁদের সংসার পরিচালনায় আর্থিকভাবে যোগান দিয়ে আসলেও সংগঠনের নির্দেশক্রমে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ চাকরি ও মিডিয়ায় ইসলামী আলোচক হিসেবে পরিচিতি থাকলেও তা ছেড়ে এলাকায় চলে আসেন এবং তিনি এখনো এলাকায় অবস্থান করে ছোট্ট একটি মাদ্রাসায় চাকরি করে যাচ্ছেন, যার ফলে পারিবারিকভাবে তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। অন্যদিকে ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল জলিল অর্থনৈতিকভাবে তেমন স্বাবলম্বী না হলেও নিজের সবটুকু দিয়ে জনগণের মাঝে সংগঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। জানা যায়, দীর্ঘ দুই যুগ ধরে জামায়াতে এই দুই নেতা জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত রয়েছেন এবং জামায়াতের রুকন হয়েছেন তাও প্রায় এক যুগের বেশি সময়।
সব মিলিয়ে সাইকেলে যাতায়াত এবং ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়গুলো কনকদিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের এই দুই দায়িত্বশীলের জীবনযাপনের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে এলাকার মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
প্রধান সম্পাদক কামরুজ্জামান বাচ্চু
আরিফুল ইসলাম সাগর কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
ঠিকানাঃ গোলাবাড়ি, বাউফল ,পটুয়াখালী
ইমেইলঃ khoborbauphalnews@gmail.com
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত