ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে জিপিএ-৫, সাকিরুলের পাশে দাঁড়ালেন বাউফলের ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৪ পাওয়ার পর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, পরবর্তী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করতেই হবে। সেই জেদকে শক্তিতে পরিণত করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন সাকিরুল ইসলাম (১৮)। তার এই সাফল্যে আনন্দিত পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। এবার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাকিরুলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনন্দন জানান ইউএনও। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় খরচের জন্য তাকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

সাকিরুল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছালেহিয়া ফাযিল মাদরাসার শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই তিনি এবারের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে পরীক্ষার দিনগুলো তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। পরীক্ষা চলাকালে একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা উপেক্ষা করেই সাহস ও মনোবল নিয়ে সবগুলো পরীক্ষা শেষ করেন।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শুরু হয় ফলাফলের অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার দিনগুলোতেও দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়েনি। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হবে কি না, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন সাকিরুল। অবশেষে ফল প্রকাশের পর জিপিএ-৫ অর্জনের খবর তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে।

সাকিরুলের বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নের হোসনাবাদ এলাকার প্যাদা বাড়িতে। তার বাবা মাওলানা মো. মোশাররফ হোসাইন স্থানীয় একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। মা মোসা. সাকিরা বেগম গৃহিণী। দুই ছেলের মধ্যে সাকিরুল বড়। ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মাশরাফি (১১) একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ইউএনও সালেহ আহমেদ বলেছেন, ‘সাকিরুলকে অভিনন্দন জানাই। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে সে আরও ভালো জায়গায় পৌঁছাবে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তাকে জীবনে ভালো কিছু করতে হবে। মনোবল শক্ত রাখতে হবে।’

সাকিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইউএনও স্যার আমাকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানিয়েছেন এবং ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছেন। এ জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২ নভেম্বর) দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকায় ‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় সাকিরুলের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি ইউএনও সালেহ আহমেদের নজরে এলে তিনি সাকিরুলকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসতে বলেন। পরে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে জিপিএ-৫, সাকিরুলের পাশে দাঁড়ালেন বাউফলের ইউএনও

আপডেট সময় : ০৮:০৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৪ পাওয়ার পর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, পরবর্তী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করতেই হবে। সেই জেদকে শক্তিতে পরিণত করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন সাকিরুল ইসলাম (১৮)। তার এই সাফল্যে আনন্দিত পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। এবার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাকিরুলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনন্দন জানান ইউএনও। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় খরচের জন্য তাকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

সাকিরুল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছালেহিয়া ফাযিল মাদরাসার শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই তিনি এবারের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে পরীক্ষার দিনগুলো তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। পরীক্ষা চলাকালে একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা উপেক্ষা করেই সাহস ও মনোবল নিয়ে সবগুলো পরীক্ষা শেষ করেন।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শুরু হয় ফলাফলের অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার দিনগুলোতেও দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়েনি। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হবে কি না, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন সাকিরুল। অবশেষে ফল প্রকাশের পর জিপিএ-৫ অর্জনের খবর তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে।

সাকিরুলের বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নের হোসনাবাদ এলাকার প্যাদা বাড়িতে। তার বাবা মাওলানা মো. মোশাররফ হোসাইন স্থানীয় একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। মা মোসা. সাকিরা বেগম গৃহিণী। দুই ছেলের মধ্যে সাকিরুল বড়। ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মাশরাফি (১১) একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ইউএনও সালেহ আহমেদ বলেছেন, ‘সাকিরুলকে অভিনন্দন জানাই। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে সে আরও ভালো জায়গায় পৌঁছাবে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তাকে জীবনে ভালো কিছু করতে হবে। মনোবল শক্ত রাখতে হবে।’

সাকিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইউএনও স্যার আমাকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানিয়েছেন এবং ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছেন। এ জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২ নভেম্বর) দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকায় ‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় সাকিরুলের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি ইউএনও সালেহ আহমেদের নজরে এলে তিনি সাকিরুলকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসতে বলেন। পরে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।