ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাকে দাফন করে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন মেয়ে!

মুনতাসির তাসরিপ
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ মে ২০২৩
  • / ৪৪১ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফলে মা কে দাফন করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন মারিয়া আক্তার। মঙ্গলবার(০২ এপ্রিল) উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১নং পরীক্ষাকেন্দ্রে বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে। ইউনিয়নের পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মারিয়া।

জানা যায়, সোমবার(০১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার গ্রীন লাইফ হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তার মা সাহিদা বেগম। রাত ৯ঃ৪৫ এ তাকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং রাত ১১টার দিকে জানাযা শেষে দাফন করা হয়। এমন ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

রাতে মা কে দাফন করেই সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যায় মারিয়া। মারিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কোর্ট পাড় এলাকার সওদাগর বাড়ির ওয়াহিদুল ইসলামের মেয়ে। তার প্রথম শ্রেনিতে পড়ুয়া একজন ভাই রয়েছে। মায়ের মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মারিয়া।

মারিয়া বলে,‘ আমার মা আমার সাথে একটু কথাও বলে নাই, কেমনে গেল আমার লগে কথা না কইয়া?’

মেয়েটির বাবা ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন,
‘৫ দিন ধরে আইসিউতে ছিলো, আমার সব গেছে ,ওর মাও গেছে,আমার সব শেষ। ছেলের জন্য ৩ জোড়া জুতা কিনছিলাম আগে তাও আনতে পারি নাই,হাসপাতালে ১লাখ টাকা দিয়া আইছি।ওই টাকা আনতে বাসায় গেছিলাম,ওর মায়ের লাশ হাসপাতালে রাইখা,তহন বাসা থেকে একটা লইছি হের মধ্যে ছেলের জুতা ছিল, লইছি এইজন্য যে ছেলেটা সময় জুতা পাইয়া ওর মায়রে ভুইলা যাবে আর হে ব্যাগও সিনজিতে হালাইয়া আইছি।’

পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিশির কুমার বলেন, পরীক্ষার আগের রাতে নিজের গর্ভধারিণী মাকে হারানো একটি অলৌকিক ব্যপার। মারিয়ার জন্য স্বান্তনা দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মাকে দাফন করে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন মেয়ে!

আপডেট সময় : ১২:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ মে ২০২৩

পটুয়াখালীর বাউফলে মা কে দাফন করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন মারিয়া আক্তার। মঙ্গলবার(০২ এপ্রিল) উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১নং পরীক্ষাকেন্দ্রে বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে। ইউনিয়নের পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মারিয়া।

জানা যায়, সোমবার(০১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার গ্রীন লাইফ হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তার মা সাহিদা বেগম। রাত ৯ঃ৪৫ এ তাকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং রাত ১১টার দিকে জানাযা শেষে দাফন করা হয়। এমন ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

রাতে মা কে দাফন করেই সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যায় মারিয়া। মারিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কোর্ট পাড় এলাকার সওদাগর বাড়ির ওয়াহিদুল ইসলামের মেয়ে। তার প্রথম শ্রেনিতে পড়ুয়া একজন ভাই রয়েছে। মায়ের মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মারিয়া।

মারিয়া বলে,‘ আমার মা আমার সাথে একটু কথাও বলে নাই, কেমনে গেল আমার লগে কথা না কইয়া?’

মেয়েটির বাবা ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন,
‘৫ দিন ধরে আইসিউতে ছিলো, আমার সব গেছে ,ওর মাও গেছে,আমার সব শেষ। ছেলের জন্য ৩ জোড়া জুতা কিনছিলাম আগে তাও আনতে পারি নাই,হাসপাতালে ১লাখ টাকা দিয়া আইছি।ওই টাকা আনতে বাসায় গেছিলাম,ওর মায়ের লাশ হাসপাতালে রাইখা,তহন বাসা থেকে একটা লইছি হের মধ্যে ছেলের জুতা ছিল, লইছি এইজন্য যে ছেলেটা সময় জুতা পাইয়া ওর মায়রে ভুইলা যাবে আর হে ব্যাগও সিনজিতে হালাইয়া আইছি।’

পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিশির কুমার বলেন, পরীক্ষার আগের রাতে নিজের গর্ভধারিণী মাকে হারানো একটি অলৌকিক ব্যপার। মারিয়ার জন্য স্বান্তনা দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই।