ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউফলে ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার বাউফলে নির্মিত হচ্ছে ‘ভালোবাসি বাউফল’ পার্ক, বাড়বে শহরের সৌন্দর বাউফলে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু, পরিচয় শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা বাউফলে সাইকেলে সাংগঠনিক পথচলা ইউনিয়ন আমীর ও সেক্রেটারি, খুবই সাধারণ জীবনযাপন, নেই দল ও এমপির প্রতি কোনো অভিযোগ বাউফলে চোরাই দুই মহিষ উদ্ধার, ‘দাদা চোর চক্রের’ দুই সদস্য আটক WordCamp Central: WordCamp Sylhet 2026: No Swag, All Heart বাউফলের সূর্যমণি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদুর রহমান বাউফলে শনিবার সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে WPBeginner Spotlight 29: WPVibe Passes 100,000 Users, OptinMonster MCP, and an Urgent PHP Fix বাউফলে গালাগালিকে কেন্দ্র করে নারীদের সংঘর্ষ, আহত ৩

দশমিনায় ১৪ বছরেও বিচার মেলেনি আলোচিত আলীম হত্যার

খবর বাউফল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩
  • / ৫৭৮ বার পড়া হয়েছে

২০০৯ সালের ১৪ মার্চে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আকাশ ঢেকে যায় কালো মেঘে। উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। স্বজনদের আহাজারিতে দেখে নিস্তব্ধ হয়ে যায় সাধারণ মানুষ। কারণ ওই সময় এই উপজেলার ইতিহাসে ঘটে স্মরণকালের অন্যতম জঘন্যতম হত্যা কান্ড। আলীম হত্যা।

খুনীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রেখে যায় আলীমকে। এখনও সেই স্মৃতি মনে করে আতকে ওঠেন আলীমের স্বজন ও স্থানীয়রা। ওই খুনের দীর্ঘ ১৪ বছর কেটে গেলেও এখনও স্বজনরা পাননি আলীম হত্যার বিচার। আসামীরা জামিনে বেরিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। বিচার পাওয়া নিয়ে স্বজনদের মাঝে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১০ মার্চ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দ জাফর গ্রামের মো. নুর হোসেন ভুইয়ার ছেলে মটরসাইকেল চালক মো. আলীম ভুইয়া সুমন (২০) নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিন দিন পর ১৪ মার্চ একই ইউনিয়নের পূজাখোলা এলাকার একটি পুকুর থেকে লাশ পাওয়া যায় আলীমের। নিখোঁজের এক দিন পর স্বজনরা আলীমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দশমিনা থানায় সাধারণ ডায়রিও করেন।

এ ঘটনায় আলীমের বাবা মো. নুর হোসেন ভুইয়া ওই সময় থানায় এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে তিনি বলেন, নিখোঁজের দিন আলীম তার বাজাজ মটরসাইকেল নিয়ে সকালে ঘর থেকে বের হন। পরে আর সে ফেরেনি। নিখোঁজের আগে উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিঅ্যান্ডটি সামনের এলাকার (সিকদার বাড়ির পাশে) মোহাম্মদ হোসেন কালুর ছেলে মো. মিরাজ প্যাদার সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে আলীমের। উপজেলা সদরের কাপুরিয়া কাচারি এলাকায় কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনার সময় মিরাজ আলীমকে নানা রকম হুমকি-ধমকি দেন। এজাহারে আলীমের বাবা জানান, মিরাজ প্যাদা লোকজন নিয়ে তার ছেলে আলীমকে কুপিয়ে হত্যা করে কুপুরে ফেলে রাখে এবং আলীমের মটরসাইকেলসহ মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এজাহার দেয়ার পর মামলাটি দশমিনা আদালতে ও পরে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে এবং সেখান থেকে অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হয়। ওই সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল হোসেন ভিন্ন ভিন্ন চার্জসিট দেন।

সবশেষ পাওয়া একটি চার্জসিটে দেখা যায়, মামলার প্রধান অভিযুক্ত মিরাজকে একটি চার্জসিটে প্রধান অভিযুক্ত করে রিপন সরদার,মমিন গাজী ও কবির হোসেনসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই মামলা থেকে ৮ জনকে খালাশও দেয়া হয়। কিছু দিন জেল খেটে মিরাজ প্যাদা জামিনে বের হয়ে মানুষকে মারধর করাসহ আবার নানা অপকর্ম জরিয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির বিচার কাজ চলমান থাকায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন আলীমের পরিবার।

আলীমের বাবা নুর হোসেন ভুইয়া ও মা মিনারা বেগম বলেন, তারা নিম্ন আয়ের মানুষ। দীর্ঘ ১৪ বছর হলেও ছেলে হত্যার বিচার পাননি। বয়স হয়ে যাওয়া ও নানা কারণে মামলার পেছনে সময় দিতে পারেননা। ছেলে হত্যার বিচার পাবেন কিনা তা নিয়ে হত্যাশায় ভুগছেন। তারা আলীম হত্যার দ্রæত সর্বোচ্চ বিচার চান।

মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী হাওলাদার বলেন, মামলার স্বাক্ষী চলমান রয়েছে। এরপর যুক্তিতর্ক। মামলায় স্বাক্ষী শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা করার প্রমাণ পেলে রাষ্ট্র পক্ষ থেকে আসামীদের ফাঁসি চওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দশমিনায় ১৪ বছরেও বিচার মেলেনি আলোচিত আলীম হত্যার

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩

২০০৯ সালের ১৪ মার্চে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আকাশ ঢেকে যায় কালো মেঘে। উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। স্বজনদের আহাজারিতে দেখে নিস্তব্ধ হয়ে যায় সাধারণ মানুষ। কারণ ওই সময় এই উপজেলার ইতিহাসে ঘটে স্মরণকালের অন্যতম জঘন্যতম হত্যা কান্ড। আলীম হত্যা।

খুনীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রেখে যায় আলীমকে। এখনও সেই স্মৃতি মনে করে আতকে ওঠেন আলীমের স্বজন ও স্থানীয়রা। ওই খুনের দীর্ঘ ১৪ বছর কেটে গেলেও এখনও স্বজনরা পাননি আলীম হত্যার বিচার। আসামীরা জামিনে বেরিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। বিচার পাওয়া নিয়ে স্বজনদের মাঝে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১০ মার্চ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দ জাফর গ্রামের মো. নুর হোসেন ভুইয়ার ছেলে মটরসাইকেল চালক মো. আলীম ভুইয়া সুমন (২০) নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিন দিন পর ১৪ মার্চ একই ইউনিয়নের পূজাখোলা এলাকার একটি পুকুর থেকে লাশ পাওয়া যায় আলীমের। নিখোঁজের এক দিন পর স্বজনরা আলীমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দশমিনা থানায় সাধারণ ডায়রিও করেন।

এ ঘটনায় আলীমের বাবা মো. নুর হোসেন ভুইয়া ওই সময় থানায় এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে তিনি বলেন, নিখোঁজের দিন আলীম তার বাজাজ মটরসাইকেল নিয়ে সকালে ঘর থেকে বের হন। পরে আর সে ফেরেনি। নিখোঁজের আগে উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিঅ্যান্ডটি সামনের এলাকার (সিকদার বাড়ির পাশে) মোহাম্মদ হোসেন কালুর ছেলে মো. মিরাজ প্যাদার সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে আলীমের। উপজেলা সদরের কাপুরিয়া কাচারি এলাকায় কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনার সময় মিরাজ আলীমকে নানা রকম হুমকি-ধমকি দেন। এজাহারে আলীমের বাবা জানান, মিরাজ প্যাদা লোকজন নিয়ে তার ছেলে আলীমকে কুপিয়ে হত্যা করে কুপুরে ফেলে রাখে এবং আলীমের মটরসাইকেলসহ মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এজাহার দেয়ার পর মামলাটি দশমিনা আদালতে ও পরে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে এবং সেখান থেকে অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হয়। ওই সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল হোসেন ভিন্ন ভিন্ন চার্জসিট দেন।

সবশেষ পাওয়া একটি চার্জসিটে দেখা যায়, মামলার প্রধান অভিযুক্ত মিরাজকে একটি চার্জসিটে প্রধান অভিযুক্ত করে রিপন সরদার,মমিন গাজী ও কবির হোসেনসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই মামলা থেকে ৮ জনকে খালাশও দেয়া হয়। কিছু দিন জেল খেটে মিরাজ প্যাদা জামিনে বের হয়ে মানুষকে মারধর করাসহ আবার নানা অপকর্ম জরিয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির বিচার কাজ চলমান থাকায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন আলীমের পরিবার।

আলীমের বাবা নুর হোসেন ভুইয়া ও মা মিনারা বেগম বলেন, তারা নিম্ন আয়ের মানুষ। দীর্ঘ ১৪ বছর হলেও ছেলে হত্যার বিচার পাননি। বয়স হয়ে যাওয়া ও নানা কারণে মামলার পেছনে সময় দিতে পারেননা। ছেলে হত্যার বিচার পাবেন কিনা তা নিয়ে হত্যাশায় ভুগছেন। তারা আলীম হত্যার দ্রæত সর্বোচ্চ বিচার চান।

মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী হাওলাদার বলেন, মামলার স্বাক্ষী চলমান রয়েছে। এরপর যুক্তিতর্ক। মামলায় স্বাক্ষী শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা করার প্রমাণ পেলে রাষ্ট্র পক্ষ থেকে আসামীদের ফাঁসি চওয়া হবে।