ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে মসজিদের বরাদ্ধের টাকা আত্মসাৎ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩
  • / ৪৩৬ বার পড়া হয়েছে

একটি গ্রামে যে মসজিদের নামে প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছে। সেই নামে কোনো মসজিদ নেই! ওই গ্রামে অন্য নামে মসজিদ থাকলেও মসজিদটির সামনে,পিছনে কিংবা পাশে কোথাও পুকুর নেই। অথচ মসজিদের সামনের পুকুরের ঘাটলা নির্মাণের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই টাকার কাজ না করেই তা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এমন পুকুর চুরির ঘটনা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামে হাজীর হাট মসজিদের সামনের পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ প্রকল্পের। সরকারি টাকা আত্মসাৎতের ঘটনায় আত্মসাৎকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন হাজির হাট এলাকার বাসিন্দা ও কালিশুরী ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুব আলম।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের সরকারি টাকায় হাজীর হাট মসজিদের সামনের পুকুরে পাকা ঘাটলা নির্মাণের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী মোঃ মাহবুব আলম বলেন, হাজীর হাট কোনো মসজিদ নাই। অথচ হাজীর হাট মসজিদের নামে ঘাটলা নির্মাণের সব টাকা উত্তোলণ করে আত্মসাৎ করেছেন প্রকল্প সভাপতি মোঃ মনির আলম ।

অভিযোগের সত্যতা যাছাইয়ের জন্য আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সরেজমিনে হাজীর হাট গিয়ে দেখা যায়, ওই হাটে কোনো মসজিদ নাই। হাটের অদূরে দক্ষিণ পাশে মসজিদ-ই আলী হোসেন হাওলাদার নামে একটি ছোট টিনের মসজিদ রয়েছে। যেখানে জুমার নামাজ হয় না। ওই মসজিদের সামনে, পিছনে কিংবা আশ পাশে পুকুরের কোনো অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন,কাজ না করে যিনি বা যাঁরা টাকা উত্তোলণ করে আত্মসাৎ করেছেন এবং ওই কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে ভবিষ্যতে এ জাতীয় পুকুর চুরির মত ন্যাক্কারজনক কাজ করার অন্য কেউ সাহস পাবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রফিক মিয়া (৫৫) বলেন,হাজীর হাট কোনো মসজিদ নাই। হাজীর হাটের কাছে যে মসজিদ আছে সেই মসজিদের কোনো পুকুর নাই। আর ওই মসজিদে জুমার নামাজও হয় না। হাজীর হাটের দোকানিদের দাবি হাজীর হাট-সংলগ্ন পূর্ব পাশে একটি খাল রয়েছে। সেখানে একটি পাকা ঘাটলা নির্মাণ করা হলে মসজিদের মুসুল্লী এবং হাটে আসা মানুষেরা উপকৃত হবেন।

এ বিষয়ে মনির আলম বলেন,পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে তাঁরই বড় ভাই মাহাবুব আলম অভিযোগ করেছেন। তিনি (মনির) ঘাটলা নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি না বলে দাবি করেন।

ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বায়েজিদুর রহমান বলেন,‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাউফলে মসজিদের বরাদ্ধের টাকা আত্মসাৎ

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩

একটি গ্রামে যে মসজিদের নামে প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছে। সেই নামে কোনো মসজিদ নেই! ওই গ্রামে অন্য নামে মসজিদ থাকলেও মসজিদটির সামনে,পিছনে কিংবা পাশে কোথাও পুকুর নেই। অথচ মসজিদের সামনের পুকুরের ঘাটলা নির্মাণের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই টাকার কাজ না করেই তা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এমন পুকুর চুরির ঘটনা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামে হাজীর হাট মসজিদের সামনের পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ প্রকল্পের। সরকারি টাকা আত্মসাৎতের ঘটনায় আত্মসাৎকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন হাজির হাট এলাকার বাসিন্দা ও কালিশুরী ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুব আলম।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের সরকারি টাকায় হাজীর হাট মসজিদের সামনের পুকুরে পাকা ঘাটলা নির্মাণের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী মোঃ মাহবুব আলম বলেন, হাজীর হাট কোনো মসজিদ নাই। অথচ হাজীর হাট মসজিদের নামে ঘাটলা নির্মাণের সব টাকা উত্তোলণ করে আত্মসাৎ করেছেন প্রকল্প সভাপতি মোঃ মনির আলম ।

অভিযোগের সত্যতা যাছাইয়ের জন্য আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সরেজমিনে হাজীর হাট গিয়ে দেখা যায়, ওই হাটে কোনো মসজিদ নাই। হাটের অদূরে দক্ষিণ পাশে মসজিদ-ই আলী হোসেন হাওলাদার নামে একটি ছোট টিনের মসজিদ রয়েছে। যেখানে জুমার নামাজ হয় না। ওই মসজিদের সামনে, পিছনে কিংবা আশ পাশে পুকুরের কোনো অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন,কাজ না করে যিনি বা যাঁরা টাকা উত্তোলণ করে আত্মসাৎ করেছেন এবং ওই কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে ভবিষ্যতে এ জাতীয় পুকুর চুরির মত ন্যাক্কারজনক কাজ করার অন্য কেউ সাহস পাবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রফিক মিয়া (৫৫) বলেন,হাজীর হাট কোনো মসজিদ নাই। হাজীর হাটের কাছে যে মসজিদ আছে সেই মসজিদের কোনো পুকুর নাই। আর ওই মসজিদে জুমার নামাজও হয় না। হাজীর হাটের দোকানিদের দাবি হাজীর হাট-সংলগ্ন পূর্ব পাশে একটি খাল রয়েছে। সেখানে একটি পাকা ঘাটলা নির্মাণ করা হলে মসজিদের মুসুল্লী এবং হাটে আসা মানুষেরা উপকৃত হবেন।

এ বিষয়ে মনির আলম বলেন,পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে তাঁরই বড় ভাই মাহাবুব আলম অভিযোগ করেছেন। তিনি (মনির) ঘাটলা নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি না বলে দাবি করেন।

ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বায়েজিদুর রহমান বলেন,‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।