পিঁড়িতে বসিয়ে ৭০ বছর ধরে চুল-দাড়ি কাটছেন শ্রী মাধব চন্দ্রশীল
- আপডেট সময় : ১১:৫১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
- / ৪৫৫ বার পড়া হয়েছে

চুল-দাঁড়ি কাটার কারণে যুগের পর যুগ ধরে নরসুন্দরদের কদর ও প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। চুল-দাঁড়ি কেটে মানুষকে সুন্দর করাটাই একমাত্র কাজ বলে তাদেরকে নরসুন্দর বলা হয়।
একসময় হাট-বাজার ও গ্রামাঞ্চলে পিঁড়িতে বসে চুল-দাঁড়ি কেটে নিতেন সকল বয়সী পুরুষ। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামাঞ্চলের এই ঐতিহ্য। আর এই ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে চুল-দাঁড়ি কাটতে এখনো শ্রী মাধব চন্দ্রশীল ।
গতকাল শনিবার সকালে বাউফল উপজেলার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড বাজার রোড বটতলার সামনে মাটিতে বসে চুল কাটতে দেখা যায় নরসুন্দর শ্রী মাধব চন্দ্রশীল(৮৫)।
জানা যায়, প্রায় দুই দশক আগে প্রত্যেকটি হাট-বাজারে সারিবদ্ধভাবে বসে চুল-দাঁড়ি কামানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করতেন নরসুন্দর পেশাজীবীরা। আর মাটিতে পিঁড়ি-ইটের ওপরে বসে মাথার চুল কেটে নেওয়াসহ দাঁড়ি শেভ করে নিতে সিরিয়ালে অপেক্ষা করতেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পুরুষেরা। এরপর নিজের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পর্যায়ক্রমে কাজ করিয়ে নিতেন অপেক্ষমাণ পুরুষেরা। এ সময় নরসুন্দরদের কেচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠত নাপিত পট্টি। সেই সময়ে শেভ করতে ছিল না ব্লেড। লোহার তৈরি ধারালো খুর দিয়ে দাঁড়ি কাটা হতো। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে এই ঐতিহ্য। এটি এখন দখল করে নিয়েছে হেয়ার কাটিং সেন্টার, সেলুন। যার ফলে সেই সময়ের অনেক নরসুন্দর ছিটকে গেছে এ পেশা থেকে।
নরসুন্দর শ্রী মাধব চন্দ্রশীল জানান, ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি এ পেশায় এসেছেন। প্রায় ৭০ বছর ধরে নরসুন্দর পেশায় জড়িত।এ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। কিন্তু এখন আর আগের মত কেউ কাজ করায় না। সবাই বিভিন্ন সেলুনে কিংবা নিজেই বাড়িতে শেভ করে নেন।
তিনি আরও বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে এখনো ধরে রেখেছি পেশাটি। এখন অবস্থা ভালো নাহ ১৫০-২০০ ইনকাম হয়,বর্তমান বাজেরে এই টাকায় চলতে খুব কষ্ট হয় ।প্রত্যেক জনের চুল কাটা ২০ টাকা ও সেভ করা ১০ টাকা হারে কাজটি করি।’


















