ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার স্বপ্ন আমি একবার জাতীয় টিমে খেলব

মুনতাসির তাসরিপ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৪৬১ বার পড়া হয়েছে

কমলিকা সাজ্জাল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মাধবপুর নামক একটি অজপাড়াগাঁ এর মেয়ে। ১০৬ নং মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে এবার ৫ম শ্রেণির ছাত্রী৷ মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা কমল সাজ্জাল ও শখী রাণী দম্পতির ঘরে ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর কমলিকা জন্মগ্রহণ করেন।

মেয়েরাও পারে বিশ্বকে জয় করতে, মেয়ে হয়ে জন্মানো কোন অপরাধ নয় বরং গৌরবের। এমন ধারণাকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলছে ১০ বছর বয়সী শিশু ফুটবলার কমলিকা সাজ্জাল। উপজেলা, জেলা ও বিভাগের গন্ডি পেড়িয়ে ইতিমধ্যে সাড়া ফেলছে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে। ডাক পেয়েছে বিকেএসপিতে, প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছে বাফুফেতে।

কমলিকার পিতা কমল সাজ্জালর স্বপ্ন ছিল তিনি একজন বড় খেলোয়াড় হবেন। তবে নানা কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। তবে স্বপ্ন বুনেছেন মেয়েকে নিয়ে। আর সেই স্বপ্ন যাত্রায় অবিরাম ছুটে চলছেন তিনি। কমল একজন স্থানীয় পর্যায়ের ফুটবলার ছিলেন। বর্তমানে একটি টেইলারস এর দোকান দিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছেন। গত বছর তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) রেফারি নির্বাচিত হন।

কমল সাজ্জালের স্বপ্ন তাঁর মেয়ে কমলিকা একদিন জাতীয় নারী ফুটবল দলে খেলবে। ফুটবলের প্রতি মেয়ের আগ্রহ দেখে মেয়ের নামেই প্রতিষ্ঠা করেন ‘কমলিকা ফুটবল একাডেমি’। ওই একাডেমিতে বর্তমানে ৫০ জন শিশু প্রশিক্ষণ নেয় । যার মধ্যে অধিকাংশই মেয়ে শিশু। প্রতিদিন বিকেল ৩ টায় স্কুল মাঠে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাদের। আর প্রশিক্ষক কমল সাজ্জাল। শুধু কমলিকাই নয় এই একাডেমির সকলেই চায় জাতীয় পর্যায়ে খেলে এলাকার সুনাম কুড়িয়ে আনতে৷

কমলিকাকে নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে মুলত সবশেষ ২০২৩ সালের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের পর থেকে। ১০৬ নং মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে উপজেলা,জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে খেলে চ্যাম্পিয়ন হয় কমলিকার টিম। সব কয়টি ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয় কমলিকা। এ আসরে মোট ৩৮ গোল করেছে এই উদীয়মান শিশু ফুটবলার৷

পটুয়াখালী জেলার অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দলের সহকারী ক্যাপ্টেন কমলিকা । এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানের বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে নিজের সেরাটা দেখিয়ে সুনাম কুড়িয়েছে সে।

ইতিমধ্যে কমলিকা ডাক পেয়েছেন বিকেএসপি ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। বরিশাল বিভাগ থেকে দুইজনসহ সারা বাংলাদেশ থেকে মোট ২৫ জন এবার বিকেএসপিতে ডাক পেয়েছেন, তার একজন কমলিকা। তার ক্রমিক নম্বর ৬। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফের) অনুর্ধ্ব – ১৯ ও ১৬ এর ট্যালেন্টহান্ড এ পটুয়াখালী জেলা থেকে দুজন মেয়ে মনোনীত হয়েছেন। তারও একজন কমলিকা সাজ্জাল । এ নিয়ে এলাকায় চলছে খুশির মাতাম।

কমলিকার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় কমলিকার বসবাসের ঘরের লক্করঝক্কর অবস্থা। তবে এই ভাঙা ঘরেই সাপের মুকুট হয়ে জন্মেছে কমলিকা। তাকে ঘিরে পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে। ঘরের মধ্যে প্রবেশ করতেই চোখ পড়ে কমলিকার ফুটবল ও জুতোর দিকে। একটু ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা মিলবে এই শিশু ফুটবলারের যত অর্জন রয়েছে তার। আলমারি গুলো ট্রফি আর মেডেল দিয়ে ভরা। দুবেলা খাবার জুটুক আর নাইবা জুটুক এসব অর্জন দেখেই খুশি সবাই।

কমলিকা বলেন, ‘আমি কমলিকা সাজ্জাল। বয়স ১০। ক্লাস ফাইভ। আমার স্বপ্ন আমি একবার জাতীয় টিমে খেলব। আমার প্রথম পছন্দ (খেলোয়াড়) আমার বাবা এরপরের পছন্দ বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কৃষ্ণা রাণী ও ঋতুপর্ণা চাকমা। আমি বাফুফুটে ডাক পেয়েছি ট্রাইল দিতে যাব। আমি যাতে বাংলাদেশের হয়ে অন্যান্য দেশের সাথে খেলতে পারি এটাই আমার আশা।’

 

মেয়েকে নিয়ে যে পাহাড় সমান স্বপ্ন তা বুঝিয়ে দেয় কমল সাজ্জালের ভাষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি কমল সাজ্জাল। বাউফলের সাবেক ফুটবলার। আমি একটি একাডেমি খুলি কমলিকা ফুটবল একাডেমি। আমার স্বপ্ন ছিল আমি ফুটবলার হব কিন্তু আমি হতে পারি নাই৷ আমি আমার মেয়ে কমলিকার জন্য চেষ্টা করেছি, তাকে আমি ফুটবলার বানাবো। আমার স্বপ্ন কিছুটা পূরণ হয়েছে। সারাদেশে ২৫ জন ফুটবলারের মধ্যে বিকেএসপিতে চান্স পেয়েছে আমার মেয়ে৷ আমার মেয়ে মাধবপুর ১০৬ নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলে বরিশাল বিভাগীয় ২য় বারের মত চ্যাম্পিয়ন। আমরা প্রথম একবার জাতীয় পর্যায় খেলে আসছি, আবার ২০২৪ সালে খেলতে যাচ্ছি, প্রাথমিক পর্যায় বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা প্লেয়ার পুরুষ্কার পেয়েছে। তার মোট গোল সংখ্যা ৫০ টি। এখনো জাতীয় পর্যায় খেলার তারিখ হয় নাই। আমার স্বপ্ন আমার মেয়ে কে যেনো জাতীয় দলের খেলোয়াড় বানাতে পারি, এবং এর জন্যে আমি একটি একাডেমি খুলি।’

মাধবপুর নিশীকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়দেব শিকারী বলেন, ‘কমলিকা সাজ্জাল অত্র নিশীকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। বিভিন্ন সময়ে কমলিকা সাজ্জাল এর খেলা আমি অবলোকন করেছি আমাদের মাঠে৷ একজন খুদে খেলোয়াড় হিসেবে ওর খেলা আসলেই মনোমুগ্ধকর। ওর খেলার মান আমার কাছে ভালো লাগে৷ ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে ভালো পারফরমেন্স দেখাতে সক্ষম হয়েছে৷ এই কারণেই বাফুফে ওর জন্য একটা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতেছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের। এই অজপাড়াগাঁ এর একজন খুদে খেলোয়াড় আজ তার প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে এটা আমাদের সবার জন্য গর্বের৷ ও ভবিষ্যতে ভালো খেলোয়াড় হয়ে আমাদের এলাকা তথা সমাজ ও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে এটাই আমার প্রত্যাশা।’

দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশের মাটিতে খেলে দেশের জন্য সুনাম কুড়িয়ে আনবে কমলিকা সাজ্জাল। পিতা কমল সাজ্জাল সহ পুরো এলাকাবাসীর এখন এই একটাই প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আমার স্বপ্ন আমি একবার জাতীয় টিমে খেলব

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪

কমলিকা সাজ্জাল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মাধবপুর নামক একটি অজপাড়াগাঁ এর মেয়ে। ১০৬ নং মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে এবার ৫ম শ্রেণির ছাত্রী৷ মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা কমল সাজ্জাল ও শখী রাণী দম্পতির ঘরে ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর কমলিকা জন্মগ্রহণ করেন।

মেয়েরাও পারে বিশ্বকে জয় করতে, মেয়ে হয়ে জন্মানো কোন অপরাধ নয় বরং গৌরবের। এমন ধারণাকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলছে ১০ বছর বয়সী শিশু ফুটবলার কমলিকা সাজ্জাল। উপজেলা, জেলা ও বিভাগের গন্ডি পেড়িয়ে ইতিমধ্যে সাড়া ফেলছে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে। ডাক পেয়েছে বিকেএসপিতে, প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছে বাফুফেতে।

কমলিকার পিতা কমল সাজ্জালর স্বপ্ন ছিল তিনি একজন বড় খেলোয়াড় হবেন। তবে নানা কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। তবে স্বপ্ন বুনেছেন মেয়েকে নিয়ে। আর সেই স্বপ্ন যাত্রায় অবিরাম ছুটে চলছেন তিনি। কমল একজন স্থানীয় পর্যায়ের ফুটবলার ছিলেন। বর্তমানে একটি টেইলারস এর দোকান দিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছেন। গত বছর তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) রেফারি নির্বাচিত হন।

কমল সাজ্জালের স্বপ্ন তাঁর মেয়ে কমলিকা একদিন জাতীয় নারী ফুটবল দলে খেলবে। ফুটবলের প্রতি মেয়ের আগ্রহ দেখে মেয়ের নামেই প্রতিষ্ঠা করেন ‘কমলিকা ফুটবল একাডেমি’। ওই একাডেমিতে বর্তমানে ৫০ জন শিশু প্রশিক্ষণ নেয় । যার মধ্যে অধিকাংশই মেয়ে শিশু। প্রতিদিন বিকেল ৩ টায় স্কুল মাঠে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাদের। আর প্রশিক্ষক কমল সাজ্জাল। শুধু কমলিকাই নয় এই একাডেমির সকলেই চায় জাতীয় পর্যায়ে খেলে এলাকার সুনাম কুড়িয়ে আনতে৷

কমলিকাকে নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে মুলত সবশেষ ২০২৩ সালের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের পর থেকে। ১০৬ নং মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে উপজেলা,জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে খেলে চ্যাম্পিয়ন হয় কমলিকার টিম। সব কয়টি ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয় কমলিকা। এ আসরে মোট ৩৮ গোল করেছে এই উদীয়মান শিশু ফুটবলার৷

পটুয়াখালী জেলার অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দলের সহকারী ক্যাপ্টেন কমলিকা । এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানের বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে নিজের সেরাটা দেখিয়ে সুনাম কুড়িয়েছে সে।

ইতিমধ্যে কমলিকা ডাক পেয়েছেন বিকেএসপি ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। বরিশাল বিভাগ থেকে দুইজনসহ সারা বাংলাদেশ থেকে মোট ২৫ জন এবার বিকেএসপিতে ডাক পেয়েছেন, তার একজন কমলিকা। তার ক্রমিক নম্বর ৬। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফের) অনুর্ধ্ব – ১৯ ও ১৬ এর ট্যালেন্টহান্ড এ পটুয়াখালী জেলা থেকে দুজন মেয়ে মনোনীত হয়েছেন। তারও একজন কমলিকা সাজ্জাল । এ নিয়ে এলাকায় চলছে খুশির মাতাম।

কমলিকার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় কমলিকার বসবাসের ঘরের লক্করঝক্কর অবস্থা। তবে এই ভাঙা ঘরেই সাপের মুকুট হয়ে জন্মেছে কমলিকা। তাকে ঘিরে পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে। ঘরের মধ্যে প্রবেশ করতেই চোখ পড়ে কমলিকার ফুটবল ও জুতোর দিকে। একটু ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা মিলবে এই শিশু ফুটবলারের যত অর্জন রয়েছে তার। আলমারি গুলো ট্রফি আর মেডেল দিয়ে ভরা। দুবেলা খাবার জুটুক আর নাইবা জুটুক এসব অর্জন দেখেই খুশি সবাই।

কমলিকা বলেন, ‘আমি কমলিকা সাজ্জাল। বয়স ১০। ক্লাস ফাইভ। আমার স্বপ্ন আমি একবার জাতীয় টিমে খেলব। আমার প্রথম পছন্দ (খেলোয়াড়) আমার বাবা এরপরের পছন্দ বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কৃষ্ণা রাণী ও ঋতুপর্ণা চাকমা। আমি বাফুফুটে ডাক পেয়েছি ট্রাইল দিতে যাব। আমি যাতে বাংলাদেশের হয়ে অন্যান্য দেশের সাথে খেলতে পারি এটাই আমার আশা।’

 

মেয়েকে নিয়ে যে পাহাড় সমান স্বপ্ন তা বুঝিয়ে দেয় কমল সাজ্জালের ভাষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি কমল সাজ্জাল। বাউফলের সাবেক ফুটবলার। আমি একটি একাডেমি খুলি কমলিকা ফুটবল একাডেমি। আমার স্বপ্ন ছিল আমি ফুটবলার হব কিন্তু আমি হতে পারি নাই৷ আমি আমার মেয়ে কমলিকার জন্য চেষ্টা করেছি, তাকে আমি ফুটবলার বানাবো। আমার স্বপ্ন কিছুটা পূরণ হয়েছে। সারাদেশে ২৫ জন ফুটবলারের মধ্যে বিকেএসপিতে চান্স পেয়েছে আমার মেয়ে৷ আমার মেয়ে মাধবপুর ১০৬ নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলে বরিশাল বিভাগীয় ২য় বারের মত চ্যাম্পিয়ন। আমরা প্রথম একবার জাতীয় পর্যায় খেলে আসছি, আবার ২০২৪ সালে খেলতে যাচ্ছি, প্রাথমিক পর্যায় বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা প্লেয়ার পুরুষ্কার পেয়েছে। তার মোট গোল সংখ্যা ৫০ টি। এখনো জাতীয় পর্যায় খেলার তারিখ হয় নাই। আমার স্বপ্ন আমার মেয়ে কে যেনো জাতীয় দলের খেলোয়াড় বানাতে পারি, এবং এর জন্যে আমি একটি একাডেমি খুলি।’

মাধবপুর নিশীকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়দেব শিকারী বলেন, ‘কমলিকা সাজ্জাল অত্র নিশীকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। বিভিন্ন সময়ে কমলিকা সাজ্জাল এর খেলা আমি অবলোকন করেছি আমাদের মাঠে৷ একজন খুদে খেলোয়াড় হিসেবে ওর খেলা আসলেই মনোমুগ্ধকর। ওর খেলার মান আমার কাছে ভালো লাগে৷ ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে ভালো পারফরমেন্স দেখাতে সক্ষম হয়েছে৷ এই কারণেই বাফুফে ওর জন্য একটা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতেছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের। এই অজপাড়াগাঁ এর একজন খুদে খেলোয়াড় আজ তার প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে এটা আমাদের সবার জন্য গর্বের৷ ও ভবিষ্যতে ভালো খেলোয়াড় হয়ে আমাদের এলাকা তথা সমাজ ও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে এটাই আমার প্রত্যাশা।’

দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশের মাটিতে খেলে দেশের জন্য সুনাম কুড়িয়ে আনবে কমলিকা সাজ্জাল। পিতা কমল সাজ্জাল সহ পুরো এলাকাবাসীর এখন এই একটাই প্রত্যাশা।