ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে স্বামীর নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পাঁচ মাসের সন্তান প্রসবের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ মে ২০২৩
  • / ৫৪১ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফলে স্বামীর নির্যাতনের শিকার মোসা. সাবিনা বেগম (২২) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর পাঁচ মাসের মৃত সন্তান প্রসব হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সের সামনের সড়কে ওই ঘটনা ঘটেছে। আহত ওই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আহত সাবিনার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,২০১৮ সালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মো. ছালাম মোল্লার মেয়ে সাবিনার বিয়ে হয় পাশের বগা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের মো. মোজাফ্ফর মোল্রার ছেলে মো. সুজন মোল্লার (২৬)। সুমন ঢাকায় দর্জির কাজ করেন।

গতকাল শুক্রবার রাত দশটার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়,সাবিনা কাতরাচ্ছেন।পাশেই টেবিলের ওপর মৃত সন্তানটিকে ঢেকে রাখা হয়েছে।

সাবিনার মা আকলিমা বেগম বলেন,তাঁরা গরীব মানুষ। তাঁর স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। এরপরেও মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিয়ের সময় ধার-দেনা করে দুই লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছেন। এখন ফের পাঁচ লাখ যৌতুক দাবি করে সুজন। যা কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব না। এ কারণে সাবিনাকে প্রায়ই মারধর করে সুজন। শুক্রবার দুপুরে সাবিনাকে টাকা এনে দিতে বললে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।ক্ষুব্ধ হয়ে সুজন মারতে গেলে দৌঁড়ে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন সাবিনা। পিছন থেকে লাথি মারলে সাবিনা মাটিতে পড়ে যান।

অসুস্থ সাবিনাকে তাঁর স্বজনেরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অদূরে পৌঁছালে রাত আটটার দিকে সড়কের ওপর অটোগাড়ির মধ্যে-ই পাঁচ মাসের মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করেন।

সাবিনা বেগম

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান পাঁচ মাসের মৃত সন্তান প্রসবের কথা স্বীকার করে বলেন,‘তাঁকে (সাবিনা) ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর বাহিরে এই মুহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে সুজন মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন,‘আমি বৃহস্পতিবার ঢাকা এসেছি। শুক্রবার নির্যাতন করবো কিভাবে? বাস্তবে অন্য ছেলের সঙ্গে সাবিনার প্রেম আছে, আমার সঙ্গে থাকতে চায় না। এ কারণে আমার সন্তান মেরে ফেলেছে।’

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিচুল হক বলেন,‘বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাউফলে স্বামীর নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পাঁচ মাসের সন্তান প্রসবের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:১৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ মে ২০২৩

পটুয়াখালীর বাউফলে স্বামীর নির্যাতনের শিকার মোসা. সাবিনা বেগম (২২) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর পাঁচ মাসের মৃত সন্তান প্রসব হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সের সামনের সড়কে ওই ঘটনা ঘটেছে। আহত ওই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আহত সাবিনার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,২০১৮ সালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মো. ছালাম মোল্লার মেয়ে সাবিনার বিয়ে হয় পাশের বগা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের মো. মোজাফ্ফর মোল্রার ছেলে মো. সুজন মোল্লার (২৬)। সুমন ঢাকায় দর্জির কাজ করেন।

গতকাল শুক্রবার রাত দশটার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়,সাবিনা কাতরাচ্ছেন।পাশেই টেবিলের ওপর মৃত সন্তানটিকে ঢেকে রাখা হয়েছে।

সাবিনার মা আকলিমা বেগম বলেন,তাঁরা গরীব মানুষ। তাঁর স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। এরপরেও মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিয়ের সময় ধার-দেনা করে দুই লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছেন। এখন ফের পাঁচ লাখ যৌতুক দাবি করে সুজন। যা কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব না। এ কারণে সাবিনাকে প্রায়ই মারধর করে সুজন। শুক্রবার দুপুরে সাবিনাকে টাকা এনে দিতে বললে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।ক্ষুব্ধ হয়ে সুজন মারতে গেলে দৌঁড়ে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন সাবিনা। পিছন থেকে লাথি মারলে সাবিনা মাটিতে পড়ে যান।

অসুস্থ সাবিনাকে তাঁর স্বজনেরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অদূরে পৌঁছালে রাত আটটার দিকে সড়কের ওপর অটোগাড়ির মধ্যে-ই পাঁচ মাসের মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করেন।

সাবিনা বেগম

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান পাঁচ মাসের মৃত সন্তান প্রসবের কথা স্বীকার করে বলেন,‘তাঁকে (সাবিনা) ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর বাহিরে এই মুহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে সুজন মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন,‘আমি বৃহস্পতিবার ঢাকা এসেছি। শুক্রবার নির্যাতন করবো কিভাবে? বাস্তবে অন্য ছেলের সঙ্গে সাবিনার প্রেম আছে, আমার সঙ্গে থাকতে চায় না। এ কারণে আমার সন্তান মেরে ফেলেছে।’

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিচুল হক বলেন,‘বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।