ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউফলে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু, পরিচয় শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা বাউফলে সাইকেলে সাংগঠনিক পথচলা ইউনিয়ন আমীর ও সেক্রেটারি, খুবই সাধারণ জীবনযাপন, নেই দল ও এমপির প্রতি কোনো অভিযোগ বাউফলে চোরাই দুই মহিষ উদ্ধার, ‘দাদা চোর চক্রের’ দুই সদস্য আটক WordCamp Central: WordCamp Sylhet 2026: No Swag, All Heart বাউফলের সূর্যমণি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদুর রহমান বাউফলে শনিবার সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে WPBeginner Spotlight 29: WPVibe Passes 100,000 Users, OptinMonster MCP, and an Urgent PHP Fix বাউফলে গালাগালিকে কেন্দ্র করে নারীদের সংঘর্ষ, আহত ৩ WordCamp Central: WordPress Campus Connect at Presidency University: Building Skills, Exploring Careers, and Inspiring the Next Generation Open Channels FM: Who Controls Our Software, Open Channels News Week in Review

অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামানের চাকরি যেন সোনার হরিন

মোঃ জসীম উদ্দিন
  • আপডেট সময় : ০২:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩
  • / ৫৪১ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফলের মদনপুরা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হাসানুজ্জামান হাসান। তার পিতা সুলতান আহমেদ ছিলেন রেজিস্ট্রার প্রাইমারি স্বল্প বেতনে চাকুরি করা একজন শিক্ষক।

হাসানুজ্জামান ২০১৬ সালে সোনার হরিণ নামে পরিচিত সার্ভেয়র চাকরিতে তিনি সাতক্ষিরা জেলায় যোগদান করেন।যোগদানের পর থেকেই তিনি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। অল্পসময়ে নামে বেনামে অডেলসম্পদের মালিক হিসেবে বনে যান।

অভিযোগ উঠেছে, তিনি বরিশাল সদরসহ নিজ এলাকা বাউফলে নামে বেনামে অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক। এলাকার লোকমুখে রয়েছে সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামানের চাকরি যেন সোনার হরিণ। সার্ভেয়ারি  চাকরি পাওয়ার পর থেকেই অঢেল অর্থসম্পদের মালিক হিসেবে এলাকায় রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি।

সূত্রে জানাগেছে,সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান হাসান চাকরি শুরু করার কয়েক মাস যেতেনা যেতেই উচ্চাভিলাসী জীবন যাপন শুরু করেন। চাকরি শুরুর পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে বরিশাল বিভাগীয় শহর সহ বাউফলের বিভিন্ন স্থানে তার নিজ নামে ও আত্মীয়স্বজনের নামে অঢেল অর্থ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার নামে বরিশাল সদরের সাগরদী মৌজায় রয়েছে ৬ শতাংশ জমি। যারআনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ১৪৮ নং দলিলে রাশেদা বেগমের কাছ তিনি এইজমি ক্র‍য় করেন। বাউফল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে ১০ শতাংশ জমির মালিক তিনি। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪০ লাখটাকা। ঢাকা কেরানীগঞ্জ এলাকায় তিনিসহ ৬ ব্যাক্তির নামে রয়েছে ৪ কাঠা জমি। এছাড়াও ২০১৯ সালে ৭৫৩১ নং দলিলে বাউফলে নিজ শাশুড়ীর নামে কিনেছেন ৩০ লাখ টাকার জমি। বাউফল,সাতক্ষীরা ও খুলনার বিভিন্ন ব্যাংক তার হিসাব খোলাআছে। বরিশাল সদরের আইএফআইসি ব্যাংকে তার হিসাব নং– ১২০০৬০২৮৩ এ বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে তার স্ত্রী ও বাবার নামে হিসাব খুলে বিপুল পরিমান অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন তিনি। নিজ গ্রামের বাড়িমদনপুরাতে তিনি নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন। তাছাড়া নিজ বাড়ির রাজমিস্ত্রী জালাল হাওলাদারের জমি জোড়দখলের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে,সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সরকারি গাছ গোপনে বিক্রি করেছেন তিনি। সাতক্ষীরার খেটে খাওয়া স্বল্পশিক্ষিতগরীব মানুষকে কৌশলে ভয়–ভিতী দেখিয়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। নিজ গ্রামের স্থানীয় মানুষ ভাবেন, হাসান চাকুরিতে যুক্ত হওয়ার পরে আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছে। অজানা শক্তি বলে সকল অপরাধ করে তিনি কৌশলে মুক্ত হয়ে যায় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।এছাড়াও এলাকায় ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে চলেন তিনি।

এলাকায় অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক শীর্ষ যুবলীগ নেতার নোট বুকে ডোনার হিসেবে সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামানের নাম রয়েছে। সেই নেতার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সকল অপকর্মের পার পেয়ে যান। এলাকায় কথিত আছে তিনি বিভিন্ন সময়এলাকায় বলে বেড়ান– দুকক, প্রশাসন ও সাংবাদিক তিনি পকেটে নিয়ে ঘোরেন। তার তার কিছুই করতে পাবেনা। কিছু টাকা ব্যয় করলেই সব ঠিক হয়ে যায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান হাসান বলেন,এরকম অভিযোগ হাজারটা হয়েছে। খুজে দেখেন। যারা অভিযোগ দিয়েছে তাদেরকে আমার সামনে দেখা দরকার বলে ফোন কেটে দেয়।।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামানের চাকরি যেন সোনার হরিন

আপডেট সময় : ০২:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩

পটুয়াখালীর বাউফলের মদনপুরা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হাসানুজ্জামান হাসান। তার পিতা সুলতান আহমেদ ছিলেন রেজিস্ট্রার প্রাইমারি স্বল্প বেতনে চাকুরি করা একজন শিক্ষক।

হাসানুজ্জামান ২০১৬ সালে সোনার হরিণ নামে পরিচিত সার্ভেয়র চাকরিতে তিনি সাতক্ষিরা জেলায় যোগদান করেন।যোগদানের পর থেকেই তিনি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। অল্পসময়ে নামে বেনামে অডেলসম্পদের মালিক হিসেবে বনে যান।

অভিযোগ উঠেছে, তিনি বরিশাল সদরসহ নিজ এলাকা বাউফলে নামে বেনামে অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক। এলাকার লোকমুখে রয়েছে সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামানের চাকরি যেন সোনার হরিণ। সার্ভেয়ারি  চাকরি পাওয়ার পর থেকেই অঢেল অর্থসম্পদের মালিক হিসেবে এলাকায় রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি।

সূত্রে জানাগেছে,সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান হাসান চাকরি শুরু করার কয়েক মাস যেতেনা যেতেই উচ্চাভিলাসী জীবন যাপন শুরু করেন। চাকরি শুরুর পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে বরিশাল বিভাগীয় শহর সহ বাউফলের বিভিন্ন স্থানে তার নিজ নামে ও আত্মীয়স্বজনের নামে অঢেল অর্থ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার নামে বরিশাল সদরের সাগরদী মৌজায় রয়েছে ৬ শতাংশ জমি। যারআনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ১৪৮ নং দলিলে রাশেদা বেগমের কাছ তিনি এইজমি ক্র‍য় করেন। বাউফল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে ১০ শতাংশ জমির মালিক তিনি। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪০ লাখটাকা। ঢাকা কেরানীগঞ্জ এলাকায় তিনিসহ ৬ ব্যাক্তির নামে রয়েছে ৪ কাঠা জমি। এছাড়াও ২০১৯ সালে ৭৫৩১ নং দলিলে বাউফলে নিজ শাশুড়ীর নামে কিনেছেন ৩০ লাখ টাকার জমি। বাউফল,সাতক্ষীরা ও খুলনার বিভিন্ন ব্যাংক তার হিসাব খোলাআছে। বরিশাল সদরের আইএফআইসি ব্যাংকে তার হিসাব নং– ১২০০৬০২৮৩ এ বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে তার স্ত্রী ও বাবার নামে হিসাব খুলে বিপুল পরিমান অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন তিনি। নিজ গ্রামের বাড়িমদনপুরাতে তিনি নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন। তাছাড়া নিজ বাড়ির রাজমিস্ত্রী জালাল হাওলাদারের জমি জোড়দখলের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে,সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সরকারি গাছ গোপনে বিক্রি করেছেন তিনি। সাতক্ষীরার খেটে খাওয়া স্বল্পশিক্ষিতগরীব মানুষকে কৌশলে ভয়–ভিতী দেখিয়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। নিজ গ্রামের স্থানীয় মানুষ ভাবেন, হাসান চাকুরিতে যুক্ত হওয়ার পরে আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছে। অজানা শক্তি বলে সকল অপরাধ করে তিনি কৌশলে মুক্ত হয়ে যায় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।এছাড়াও এলাকায় ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে চলেন তিনি।

এলাকায় অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক শীর্ষ যুবলীগ নেতার নোট বুকে ডোনার হিসেবে সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামানের নাম রয়েছে। সেই নেতার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সকল অপকর্মের পার পেয়ে যান। এলাকায় কথিত আছে তিনি বিভিন্ন সময়এলাকায় বলে বেড়ান– দুকক, প্রশাসন ও সাংবাদিক তিনি পকেটে নিয়ে ঘোরেন। তার তার কিছুই করতে পাবেনা। কিছু টাকা ব্যয় করলেই সব ঠিক হয়ে যায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান হাসান বলেন,এরকম অভিযোগ হাজারটা হয়েছে। খুজে দেখেন। যারা অভিযোগ দিয়েছে তাদেরকে আমার সামনে দেখা দরকার বলে ফোন কেটে দেয়।।