ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটবারের এমপি আসম ফিরোজকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান বাউফলের মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৫১২ বার পড়া হয়েছে

আ স ম ফিরোজকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের মানুষ। তিনি এ আসন থেকে ৮বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে আওয়ামী লীগ চারবার সরকার গঠন করলেও  মন্ত্রীর আসনে স্থান হয়নি  তার। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, স্বাধীনতার পর কোনো সরকারের আমলেই বাউফলে কেউ মন্ত্রী হননি। জেলার বাকি ৩টি আসনের মানুষ  বিভিন্ন সরকারের সময়ে মন্ত্রী পেলেও বাউফল আসনের মানুষ মন্ত্রী পায়নি।  তাই আসম ফিরোজকে এবার মন্ত্রী করার দাবি তুলেছেন বাউফলের মানুষ। বাউফল সারা দেশের মধ্যে শিক্ষতি জনপথ হিসাবে পরিচিত।এ আসনে প্রায় ৪লাখ লোকের বসবাস।

জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন  প্রায়ত আজিজ খন্দকার।  বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সরকার গঠন  করে আওয়ামী লীগ। ১৯৭৯ সালে   নৌকার মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবার নির্বাচন হন আসম ফিরোজ।  এরপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০বার মনোনয়ন পান তিনি। নির্বাচিত হন ৮বার।  এরমধ্যে ২০০১ সালে  তিনি বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারে কাছে একবার পরাজিত হন। আর ২০০৬ সালে দলীয় মনোনয়ন পেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত  ৭বার  নির্বাচিত হলেও  ১৯৯৬, ২০০৮,২০১৪ ও ২০১৮ সালে ৪বার  সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।  বাকি তিনবার ১৯৭৯, ১৯৮৬ ও ১৯৯১ তিনি ছিলেন বিরোধী দলে। দীর্ঘদিন  প্রায় ৩৫ বছর এমপিত্ব করলেও মন্ত্রী পরিষদে স্থান হয়নি এই বর্ষীয়াণ রাজনীতিবিদের।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদে হুইপ ও ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদের চীফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৮ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে শেষ বাজেট অধিবেশেনে প্যানেল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন  আসম ফিরোজ।  ছিলেন সংসদীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতিও হন তিনি। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশম বারের মত নৌকার টিকেট নিয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৪১ ভোটের ব্যবধানে ৮মবারের মত এমপি নির্বাচিত হন আসম ফিরোজ। জাতির জনক  শেখ মুজিবর রহমান  জিয়াউর রহমান, এরশাদ, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার আমলে পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া- রাঙ্গাবালী ও দশমিনা-গলাচিপা আসনের এমপিরা  মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেলেও আসম ফিরোজের স্থান হয়নি।  স্বাধীনতার পর থেকে  দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে  মন্ত্রীশূণ্য  বাউফল। এতে এ উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছেন।  এবারের আসম ফিরোজকে  মন্ত্রী পরিষদে স্থান দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোড় দাবি জানিয়েছেন বাউফলবাসী।

মুক্তিযুদ্ধকালীন কামান্ডার ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার  আব্দুল বারেক মিয়া বলেন, ‘যুদ্ধকালীন সময় আসম ফিরোজের সাথে প্রথম পরিচয় হয়।  মুক্তিযুদ্ধে আসম ফিরোজ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন এবং নয় নম্বর সেক্টরের চীফ পলিটিক্যাল মটিভেটর ছিলেন। তিনি বিএম কলেজের ভিপিও ছিলেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাউফল আওয়ামী লীগের হাল ধরে আছেন। সুনামের সাথে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সফল চীফ হুইপও ছিলেন তিনি। তাকে এবার মন্ত্রীত্ব দেওয়া হোক। এ দাবি মুক্তিযোদ্ধারাসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের।’

উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও  প্রবিণ আওয়ামী লীগ কর্মী মোঃ মোকত্তার আলী (৭২) বলেন, ‘১৯৭৯ সাল থেকে আ.স.ম ফিরোজকে চিনি। তার রাজনীতিক জীবনে কোনো দুর্নাম নেই। সুনামের সাথে রাজনীতি করছে আসছেন।  তিনি অত্যন্ত সৎ লোক। তাকে মন্ত্রী পরিষদে রাখা হোক।তিনি মন্ত্রী হলে তার মন্ত্রণালয় দুর্নীতি মুক্ত হবে, এটুক নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।’

এ প্রসঙ্গে আসম ফিরোজ  বলেন, ‘১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বার নৌকার মনোনয় পেয়েছি। এ নিয়ে ৮বার এমপি হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমাকে বিশ্বাস  করেন বলেই বারবার মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি তার বিশ্বাসের মর্যদা দিয়েছি।  এরশাদ সরকারের সময় আমাকে মন্ত্রী ও আমার স্ত্রীকে সংরক্ষিত এমপি বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিলাম। যতদিন বাঁচব ততদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  ছায়াতলেই বেঁচে থাকতে চাই। তিনি আমাকে যেখানে ভালো মনে করেন সেখানেই রাখবেন। তাতেই আমি খুশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আটবারের এমপি আসম ফিরোজকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান বাউফলের মানুষ

আপডেট সময় : ০৯:২২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৪

আ স ম ফিরোজকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের মানুষ। তিনি এ আসন থেকে ৮বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে আওয়ামী লীগ চারবার সরকার গঠন করলেও  মন্ত্রীর আসনে স্থান হয়নি  তার। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, স্বাধীনতার পর কোনো সরকারের আমলেই বাউফলে কেউ মন্ত্রী হননি। জেলার বাকি ৩টি আসনের মানুষ  বিভিন্ন সরকারের সময়ে মন্ত্রী পেলেও বাউফল আসনের মানুষ মন্ত্রী পায়নি।  তাই আসম ফিরোজকে এবার মন্ত্রী করার দাবি তুলেছেন বাউফলের মানুষ। বাউফল সারা দেশের মধ্যে শিক্ষতি জনপথ হিসাবে পরিচিত।এ আসনে প্রায় ৪লাখ লোকের বসবাস।

জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন  প্রায়ত আজিজ খন্দকার।  বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সরকার গঠন  করে আওয়ামী লীগ। ১৯৭৯ সালে   নৌকার মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবার নির্বাচন হন আসম ফিরোজ।  এরপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০বার মনোনয়ন পান তিনি। নির্বাচিত হন ৮বার।  এরমধ্যে ২০০১ সালে  তিনি বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারে কাছে একবার পরাজিত হন। আর ২০০৬ সালে দলীয় মনোনয়ন পেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত  ৭বার  নির্বাচিত হলেও  ১৯৯৬, ২০০৮,২০১৪ ও ২০১৮ সালে ৪বার  সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।  বাকি তিনবার ১৯৭৯, ১৯৮৬ ও ১৯৯১ তিনি ছিলেন বিরোধী দলে। দীর্ঘদিন  প্রায় ৩৫ বছর এমপিত্ব করলেও মন্ত্রী পরিষদে স্থান হয়নি এই বর্ষীয়াণ রাজনীতিবিদের।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদে হুইপ ও ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদের চীফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৮ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে শেষ বাজেট অধিবেশেনে প্যানেল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন  আসম ফিরোজ।  ছিলেন সংসদীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতিও হন তিনি। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশম বারের মত নৌকার টিকেট নিয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৪১ ভোটের ব্যবধানে ৮মবারের মত এমপি নির্বাচিত হন আসম ফিরোজ। জাতির জনক  শেখ মুজিবর রহমান  জিয়াউর রহমান, এরশাদ, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার আমলে পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া- রাঙ্গাবালী ও দশমিনা-গলাচিপা আসনের এমপিরা  মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেলেও আসম ফিরোজের স্থান হয়নি।  স্বাধীনতার পর থেকে  দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে  মন্ত্রীশূণ্য  বাউফল। এতে এ উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছেন।  এবারের আসম ফিরোজকে  মন্ত্রী পরিষদে স্থান দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোড় দাবি জানিয়েছেন বাউফলবাসী।

মুক্তিযুদ্ধকালীন কামান্ডার ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার  আব্দুল বারেক মিয়া বলেন, ‘যুদ্ধকালীন সময় আসম ফিরোজের সাথে প্রথম পরিচয় হয়।  মুক্তিযুদ্ধে আসম ফিরোজ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন এবং নয় নম্বর সেক্টরের চীফ পলিটিক্যাল মটিভেটর ছিলেন। তিনি বিএম কলেজের ভিপিও ছিলেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাউফল আওয়ামী লীগের হাল ধরে আছেন। সুনামের সাথে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সফল চীফ হুইপও ছিলেন তিনি। তাকে এবার মন্ত্রীত্ব দেওয়া হোক। এ দাবি মুক্তিযোদ্ধারাসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের।’

উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও  প্রবিণ আওয়ামী লীগ কর্মী মোঃ মোকত্তার আলী (৭২) বলেন, ‘১৯৭৯ সাল থেকে আ.স.ম ফিরোজকে চিনি। তার রাজনীতিক জীবনে কোনো দুর্নাম নেই। সুনামের সাথে রাজনীতি করছে আসছেন।  তিনি অত্যন্ত সৎ লোক। তাকে মন্ত্রী পরিষদে রাখা হোক।তিনি মন্ত্রী হলে তার মন্ত্রণালয় দুর্নীতি মুক্ত হবে, এটুক নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।’

এ প্রসঙ্গে আসম ফিরোজ  বলেন, ‘১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বার নৌকার মনোনয় পেয়েছি। এ নিয়ে ৮বার এমপি হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমাকে বিশ্বাস  করেন বলেই বারবার মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি তার বিশ্বাসের মর্যদা দিয়েছি।  এরশাদ সরকারের সময় আমাকে মন্ত্রী ও আমার স্ত্রীকে সংরক্ষিত এমপি বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিলাম। যতদিন বাঁচব ততদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  ছায়াতলেই বেঁচে থাকতে চাই। তিনি আমাকে যেখানে ভালো মনে করেন সেখানেই রাখবেন। তাতেই আমি খুশি।