ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছে বাউফলের বগা বন্দর

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩
  • / ৯৩০ বার পড়া হয়েছে

এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফলের বগা বন্দর। শনিবার (৮ মার্চ) রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে বগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসানের নির্দেশে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আসম ফিরোজ এমপির অনুসারি বগা ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল মীরের বগা লঞ্চ ঘাটস্থ একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।একই দিন সকালে একই ইউনিয়নের শাপলাখালী গ্রামে এমপির  অনুসারি সফিক মৃধাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়।

জুয়েল মীর একসময় উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের অনুসারী থাকলেও বগা লঞ্চ ঘাট নিয়ে বিরোধের জের ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের হাতে একাধিকবার নির্যাতিত হলে তিনি আসম ফিরোজ পক্ষে চলে যান এবং বগা বন্দরে থেকে এমপির পক্ষে বিভিন্ন কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। আর সফিক মৃধা একসময়ে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তিনি বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ও এমপি আসম ফিরোজের অনুসারী হিসাবে এলাকায় অবস্থান করে তার পক্ষে কাজ করছেন। সফিক মৃধা উপজেলা চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই মোসারেফ হত্যা মামলার আসামী ছিল। এ কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান পক্ষ তার  উপর ক্ষুব্দ ছিল।উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের বাড়ি বগা বন্দরে। তিনি বগা বন্দরের বাসায় বসবাস করেন। এ কারণে বগা ইউনিয়ন ও বগা বন্দরে তার রয়েছে একছত্র আধিপত্য। দলীয় এমপি আসম ফিরোজের সাথে দলের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের বিরোধ চাঙ্গা হওয়ার পর মূলত বগায় এমপি পক্ষ একরকম কোনঠাসা হয়ে পরে। গত ১৭ মার্চ জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের  জন্ম বার্ষিকীর আনন্দ মিছিলে মোতালেব হাওলাদারের উপর এমপি আসম ফিরোজ সমর্থকদের হামলার পর উপজেলা আওয়ামী লীগরে এই দুই পক্ষ আলাদা আলাদা ভাবে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে বগা ইউনিয়নে এমপি পক্ষ প্রকাশ্যে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান পক্ষের  বাধার মুখে পরেন। তাদেরকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে দেয়া হয়না। গত শনিবার (৮ জুলাই) ঢাকা—বগা ও গলাচিপাগামী তেঁতুলিয়া নামের একটি বাসের বগায় কাউন্টার স্খাপন নিয়ে বিরোধের জের ধরে এমপির অনুসারী জুয়েল মীরের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর  করে উপজেলা চেয়ারম্যানে পক্ষ। এ ঘটনায় জুয়েল মীরের এক ভাই ও এক ভাগ্নে আহত হন। বগা লঞ্চ ঘাট এলাকায় তাদের দোকানপাঠ বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ ঘটনার পর থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পক্ষ বগা  বন্দরে ও লঞ্চ ঘাট এলাকায়  প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। এমপি পক্ষের কমীর্ সমর্থকদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এই হুমকির কারণে জুয়েল মীরসহ কয়েকজন  এমপি সমর্থক এলাকা ছেড়ে অনত্র চলে গেছেন। যে কোন সময় বগায় নিজেদের মধ্যে প্রানহানীরমত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান ও  বাউফল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে বগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্মাপাদক হমুদ হাসান বলেন,‘ বগা ইউনিয়ন ও বগা বন্দরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোন হামলা ও ভাংচুরের সাথে তিনি বাব তাদের কোন কমীর্ সমর্থক জড়িত নয়। তাদের ভাবমূর্তী নষ্ট করার জন্য অপরপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক(এমপি আসম ফিরোজর পক্ষ)  ইব্রাহিম ফারুক বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপ এমপি পক্ষের কর্মী সমর্থক যাকে যেখানে পাচ্ছেন মারধর করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান বগায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের দাবি করলেও তার পক্ষের হাতে আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী সমর্থকরা হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন। তিনি বগা ইউনিয়নে শান্তি ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছে বাউফলের বগা বন্দর

আপডেট সময় : ০৮:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩

এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফলের বগা বন্দর। শনিবার (৮ মার্চ) রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে বগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসানের নির্দেশে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আসম ফিরোজ এমপির অনুসারি বগা ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল মীরের বগা লঞ্চ ঘাটস্থ একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।একই দিন সকালে একই ইউনিয়নের শাপলাখালী গ্রামে এমপির  অনুসারি সফিক মৃধাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়।

জুয়েল মীর একসময় উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের অনুসারী থাকলেও বগা লঞ্চ ঘাট নিয়ে বিরোধের জের ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের হাতে একাধিকবার নির্যাতিত হলে তিনি আসম ফিরোজ পক্ষে চলে যান এবং বগা বন্দরে থেকে এমপির পক্ষে বিভিন্ন কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। আর সফিক মৃধা একসময়ে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তিনি বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ও এমপি আসম ফিরোজের অনুসারী হিসাবে এলাকায় অবস্থান করে তার পক্ষে কাজ করছেন। সফিক মৃধা উপজেলা চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই মোসারেফ হত্যা মামলার আসামী ছিল। এ কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান পক্ষ তার  উপর ক্ষুব্দ ছিল।উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের বাড়ি বগা বন্দরে। তিনি বগা বন্দরের বাসায় বসবাস করেন। এ কারণে বগা ইউনিয়ন ও বগা বন্দরে তার রয়েছে একছত্র আধিপত্য। দলীয় এমপি আসম ফিরোজের সাথে দলের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের বিরোধ চাঙ্গা হওয়ার পর মূলত বগায় এমপি পক্ষ একরকম কোনঠাসা হয়ে পরে। গত ১৭ মার্চ জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের  জন্ম বার্ষিকীর আনন্দ মিছিলে মোতালেব হাওলাদারের উপর এমপি আসম ফিরোজ সমর্থকদের হামলার পর উপজেলা আওয়ামী লীগরে এই দুই পক্ষ আলাদা আলাদা ভাবে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে বগা ইউনিয়নে এমপি পক্ষ প্রকাশ্যে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান পক্ষের  বাধার মুখে পরেন। তাদেরকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে দেয়া হয়না। গত শনিবার (৮ জুলাই) ঢাকা—বগা ও গলাচিপাগামী তেঁতুলিয়া নামের একটি বাসের বগায় কাউন্টার স্খাপন নিয়ে বিরোধের জের ধরে এমপির অনুসারী জুয়েল মীরের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর  করে উপজেলা চেয়ারম্যানে পক্ষ। এ ঘটনায় জুয়েল মীরের এক ভাই ও এক ভাগ্নে আহত হন। বগা লঞ্চ ঘাট এলাকায় তাদের দোকানপাঠ বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ ঘটনার পর থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পক্ষ বগা  বন্দরে ও লঞ্চ ঘাট এলাকায়  প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। এমপি পক্ষের কমীর্ সমর্থকদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এই হুমকির কারণে জুয়েল মীরসহ কয়েকজন  এমপি সমর্থক এলাকা ছেড়ে অনত্র চলে গেছেন। যে কোন সময় বগায় নিজেদের মধ্যে প্রানহানীরমত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান ও  বাউফল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে বগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্মাপাদক হমুদ হাসান বলেন,‘ বগা ইউনিয়ন ও বগা বন্দরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোন হামলা ও ভাংচুরের সাথে তিনি বাব তাদের কোন কমীর্ সমর্থক জড়িত নয়। তাদের ভাবমূর্তী নষ্ট করার জন্য অপরপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক(এমপি আসম ফিরোজর পক্ষ)  ইব্রাহিম ফারুক বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপ এমপি পক্ষের কর্মী সমর্থক যাকে যেখানে পাচ্ছেন মারধর করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান বগায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের দাবি করলেও তার পক্ষের হাতে আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী সমর্থকরা হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন। তিনি বগা ইউনিয়নে শান্তি ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।