ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে কিশোর গাংয়ের হাতে দুই শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩
  • / ৪৫৭ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নের ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ (১৫) ওনাফিস(১৫) হত্যার ঘটনায় ফুসে উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তারা আজ বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়ে খুনীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভপ্রদর্শন করেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, দুই সহপাঠীকে হারিয়ে কান্না করছেন অন্যান্য সহপাঠীরা। একে অপকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটিকরছেন। বিলাপ করছেন। গোটা বিদ্যালয় জুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম (১৫) জানান, ঘটনার সময় কিশোর গ্যাংদের হামলায় তিনিও আহতহয়েছেন। বুধবার (২২ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান শেষে তিনিসহ মারুফ ওনাফিস বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন বিদ্যালয়ের অদূরে কয়েকজন কিশোর গংয়ের সদস্যরা তাদের উপর আতর্কিত হামলা চালায়এবং এলোপাতাড়ি ভাবে ছুরিকাঘাত করতে থাকে।

হামকারী রায়হান, নাইম, হাসিবুলসহ ৫-৬ জন এঘটনার সাথে জড়িত ছিল। তারাও একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আগের দিন নবম ও দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সাথে পায়ে পা লাগার ঘটনার জেড় ধরে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সহপাঠী রাবেয়া বাশরি, শানজিদা আক্তার ও মারুফা বলেন, হামলাকারী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যহত থাকবে।

প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান আবেগ জড়িত কণ্ঠে বলেন, এমনটা হবে ভাবতেও পারিনি। আমি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।

এদিকে নিহত মারুফ ও নাফিসের লাশ এখনও এলাকায় এসে পৌঁছায়নি। বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হলে বাড়ি নিয়ে আসা হবে। বিকালে তাদের লাশ দাফন করার কথা রয়েছে।

এদিকে এঘটনার পর এখনও পর্যন্ত জড়িত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে নিহতদের পরিবারসহ এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন,ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে। তিনি আশা করছেন অল্প সময়ের মধ্যেই আসামীদের গ্রেপ্তার সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাউফলে কিশোর গাংয়ের হাতে দুই শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি

আপডেট সময় : ১২:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩

পটুয়াখালীর বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নের ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ (১৫) ওনাফিস(১৫) হত্যার ঘটনায় ফুসে উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তারা আজ বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়ে খুনীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভপ্রদর্শন করেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, দুই সহপাঠীকে হারিয়ে কান্না করছেন অন্যান্য সহপাঠীরা। একে অপকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটিকরছেন। বিলাপ করছেন। গোটা বিদ্যালয় জুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম (১৫) জানান, ঘটনার সময় কিশোর গ্যাংদের হামলায় তিনিও আহতহয়েছেন। বুধবার (২২ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান শেষে তিনিসহ মারুফ ওনাফিস বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন বিদ্যালয়ের অদূরে কয়েকজন কিশোর গংয়ের সদস্যরা তাদের উপর আতর্কিত হামলা চালায়এবং এলোপাতাড়ি ভাবে ছুরিকাঘাত করতে থাকে।

হামকারী রায়হান, নাইম, হাসিবুলসহ ৫-৬ জন এঘটনার সাথে জড়িত ছিল। তারাও একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আগের দিন নবম ও দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সাথে পায়ে পা লাগার ঘটনার জেড় ধরে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সহপাঠী রাবেয়া বাশরি, শানজিদা আক্তার ও মারুফা বলেন, হামলাকারী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যহত থাকবে।

প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান আবেগ জড়িত কণ্ঠে বলেন, এমনটা হবে ভাবতেও পারিনি। আমি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।

এদিকে নিহত মারুফ ও নাফিসের লাশ এখনও এলাকায় এসে পৌঁছায়নি। বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হলে বাড়ি নিয়ে আসা হবে। বিকালে তাদের লাশ দাফন করার কথা রয়েছে।

এদিকে এঘটনার পর এখনও পর্যন্ত জড়িত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে নিহতদের পরিবারসহ এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন,ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে। তিনি আশা করছেন অল্প সময়ের মধ্যেই আসামীদের গ্রেপ্তার সম্ভব হবে।