ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে যুবলীগ নেতার বাসায় ইফতার আয়োজন ঘিরে বিতর্ক, পুলিশের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • / ৩৪১ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নে যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সওদাগরের বাড়িতে ইফতার পার্টির আড়ালে দলীয় সমাবেশ আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ইফতার অনুষ্ঠানে প্রায় আড়াই হাজার অতিথির জন্য বিরিয়ানি, খেজুর, ছোলা, মুড়িসহ বিভিন্ন খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। রফিকুল ইসলাম সওদাগর বর্তমানে চট্টগ্রামে ব্যবসা করেন এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

স্থানীয়দের ধারণা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কাছিপাড়া ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একত্রিত করতেই এ ইফতার আয়োজন করা হয়। এতে আওয়ামী লীগপন্থী বহু নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন বলে জানা যায়।

এদিকে ইফতার পার্টির আড়ালে নিষিদ্ধ সংগঠনের দলীয় কার্যক্রম হতে পারে—এমন খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাউফল থানা পুলিশের একটি দল রফিকুল ইসলাম সওদাগরের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পর অনেকেই সেখান থেকে সরে যান বলে জানা গেছে। পরে রফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা দলীয় সমাবেশ না করার শর্তে কেবল ইফতার আয়োজনের মৌখিক অনুমতি নেন পুলিশের কাছ থেকে।

বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ইফতার পার্টির নামে কয়েক হাজার নেতাকর্মী জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকেই সরে যান।

এ বিষয়ে কাছিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লিটন মৃধা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি অফিসে হামলা-ভাঙচুরসহ একাধিক মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম সওদাগর পলাতক থেকেও নেপথ্যে থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবেই তিনি নিজ বাড়িতে ইফতারের আয়োজন করেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে রফিকুল ইসলাম সওদাগরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানান, পুলিশের উপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবুও অধিকাংশ আমন্ত্রিত অতিথি ইফতারের প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাউফলে যুবলীগ নেতার বাসায় ইফতার আয়োজন ঘিরে বিতর্ক, পুলিশের অভিযান

আপডেট সময় : ১২:২৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নে যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সওদাগরের বাড়িতে ইফতার পার্টির আড়ালে দলীয় সমাবেশ আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার এ আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ইফতার অনুষ্ঠানে প্রায় আড়াই হাজার অতিথির জন্য বিরিয়ানি, খেজুর, ছোলা, মুড়িসহ বিভিন্ন খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। রফিকুল ইসলাম সওদাগর বর্তমানে চট্টগ্রামে ব্যবসা করেন এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

স্থানীয়দের ধারণা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কাছিপাড়া ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একত্রিত করতেই এ ইফতার আয়োজন করা হয়। এতে আওয়ামী লীগপন্থী বহু নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন বলে জানা যায়।

এদিকে ইফতার পার্টির আড়ালে নিষিদ্ধ সংগঠনের দলীয় কার্যক্রম হতে পারে—এমন খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাউফল থানা পুলিশের একটি দল রফিকুল ইসলাম সওদাগরের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পর অনেকেই সেখান থেকে সরে যান বলে জানা গেছে। পরে রফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা দলীয় সমাবেশ না করার শর্তে কেবল ইফতার আয়োজনের মৌখিক অনুমতি নেন পুলিশের কাছ থেকে।

বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ইফতার পার্টির নামে কয়েক হাজার নেতাকর্মী জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকেই সরে যান।

এ বিষয়ে কাছিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লিটন মৃধা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি অফিসে হামলা-ভাঙচুরসহ একাধিক মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম সওদাগর পলাতক থেকেও নেপথ্যে থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবেই তিনি নিজ বাড়িতে ইফতারের আয়োজন করেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে রফিকুল ইসলাম সওদাগরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানান, পুলিশের উপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবুও অধিকাংশ আমন্ত্রিত অতিথি ইফতারের প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।