বাবা মায়ের বিচ্ছেদ; জীবিকার তাগিদে কাজে নেমেছে শিশু ফাহিম
- আপডেট সময় : ০৮:৫১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৩
- / ৪৪২ বার পড়া হয়েছে

সারাদিন হৈ-হুল্লোড়ের পর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে মায়ের ভর্ৎসনা; অতঃপর মায়ের সাথে আড়ি ধরা, কিছু সময় যেতেই আবার মায়ের সাথে সখ্যতা। মায়ের কড়া শাসনে বাবার কাছে নালিশ চুকানো, আবার মায়ের বুকে হুমড়ি খেয়ে আবৃত্তি করা,‘চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে কদম তলায় কে, হাতি নাচছে ঘোড়া নাচছে সোনা মনির বিয়ে।’ কখনও আবার বাবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকা,এসব কিছুই হয় না ৭ বছর বয়সী শিশু ফাহিম এর সাথে।
কাঠের বানানো উঁচু একটি বেঞ্চিতে বসে একগাদা সিদ্ধ আলুকে ঘষে টুকরো টুকরো করে ফুসকার জন্য প্রস্তুত করছে একটি শিশু। আবার যখন চটপটি ও ফুসকার বাঁটি ও চামচগুলো ময়লা হয়ে যায় তখন তিন ধাপে সাজিয়ে রাখা বালতিতে পরিষ্কার করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পরে সে । পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাবলিক মাঠ । মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কর্ণারে সারিবদ্ধভাবে কতগুলো চটপটি,হালিম ও ফুসকার দোকান। সন্ধ্যা গড়ালেই রমরমা হয়ে ওঠে এ ব্যবসা। সেখানে বসে সন্ধ্যার আকাশের সন্ধ্যা তারাকে দেখার সুযোগ নেই; দোকানের উপরের পর্দা ও পশ্চিমের সারি সারি উচু বিল্ডিং এর নিচে চাপা পড়েছে সে। কিন্তু হঠাৎ করে আলোর ফুলকির মত ধ্বসে যাওয়া একটি তারা সকলেরই নজর কাড়ে।
সে তারার চোখে-মুখে দুঃস্বপ্নের ছাপ স্পষ্ট। সে তারা উঠতে চায় আবার সুদীর্ঘ আকাশে, উড়তে চায় অনন্তকাল। আর সেই তারা’ই হলো ফাহিম। কোথায় তার প্রফুল্লতার শৈশব? চটপটি আর ফুসকার চামচ বাঁটি ধোয়ার কাজে আটকে যায়নি তো?
সন্ধ্যা গড়ালে ফাহিমের যখন পড়তে বসার কথা তখন ফাহিম পেট বাঁচানোর চিন্তায় বিভোর।
জানা যায়, ফাহিম বাউফল উপজেলার ফুলতলা এলাকার জলিল মৃধা ও রহিম দম্পতির ছেলে। বর্তমানে ফাহিম তার মামাতো ভাই মোঃ রিয়াজ এর চটপটির দোকানে কাজ করেন। আর তাতেই তার জীবন-জীবিকা সচল রয়েছে। ফাহিম উপজেলার ১০৩ নং বাউফল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। অভাব অনোটনের মধ্যেও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সে।
ফাহিম জানায়,‘আমি আদর্শ স্কুলে ১ম শ্রেণিতে পড়ি। আমার মা ঢাকা চইলা গেছে ২ মাস হইছে। গত ৮ দিন ধইরা এইহানে কাম করি।’
ফাহিমকে কাজ করতে দেখে দোকানী মোঃ রিয়াজ জানান,‘ফাহিম আমার ফুফাত ভাই। এখন থেকে দুই বছর আগে ফাহিমের বাবা অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করে ফাহিমদের পরিবার ছেড়ে চলে যায়। তখন থেকেই তাদের পরিবার টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চলছে। কোন রকম খেয়ে পরে বেঁচে আছেন তারা। কিছুদিন আগে ফাহিমের মা জীবিকার তাগিদে ঢাকার শহর গমন করেন। ফাহিমকে রেখে যান তিনি। আমি ফাহিমের ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করছি। সকলের কাছে সাহায্য কামনা করছি।’


















