রাঙ্গাবালীর খালে ভেসে এসেছে জাহাজ বিধ্বংসী ‘টর্পেডো’ সদৃশ বস্তু!
- আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪
- / ৩৩০ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের মীরকান্দা গ্রামের ‘ভাঙ্গা’ নামক খালে ভেসে এসেছে জাহাজ ধ্বংস করার মারণাস্ত্র ‘টর্পেডো’ সদৃশ বস্তু। রবিবার সকাল থেকে এলাকাবাসী এটি দেখতে পায়। এটি একদিকে এলাকার মানুষের মধ্যে কৌতুহল বাড়ায়। আরেকদিকে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। তৈরি হয় নানা গুজব।
স্থানীয়দের ধারণা বঙ্গোপসাগর থেকে রাবনাবাদ চ্যানেল হয়ে টর্পেডো সদৃশ্য বস্তুটি ভাঙা খালের মধ্যে এসেছে। খবর পেয়েই রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তারা স্থানীয় উৎসুক মানুষদের বস্তুটির কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে এবং বস্তুটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে অন্যত্র ভেসে যেতে না পারে। এছাড়া কোস্টগার্ডের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে প্রাথমিক পরীক্ষা নীরিক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার পরে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সকাল থেকেই টর্পেডোর মতো দেখতে বস্তুটিকে খালে ভাসতে দেখা যায়। প্রথমদিকে এটি নিয়ে সাধারণের মাঝে তেমন আগ্রহ ছিল না। অনেকের ধারণা ছিল যেহেতু কাছেই পায়রা সমুদ্রবন্দর। সেহেতু কোনো জাহাজ থেকে ‘কিছু’ একটা ভেসে এসেছে। কিন্তু যখন খবর ছড়িয়ে পরে যে, এটি একটি মারণাস্ত্র এবং এটি পানির নিচ দিয়ে চলাচল করে। এটি দিয়ে শত্রুপক্ষের জাহাজ ধ্বংস করা হয়। এর নাম টর্পেডো। তখনই এ খবর মানুষের মাঝে কৌতুহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। বহু মানুষ এটি দেখতে ভিড় জমায়।
প্রত্যক্ষদর্শী মৌডুবি ইউনিয়নের মীরকান্দা গ্রামের আরাফাত হোসেন জানান, বস্তুটি দেখতে ভারী কোনো অস্ত্রের মতো। সাধারণত টিভি চ্যানেলে শত্রুপক্ষের উদ্দেশে যে ‘মিসাইল’ ছোড়ার দৃশ্য দেখানো হয়, এটি দেখতে অনেকটা সেই মিসাইলের মতো। দেখতে ভয় লাগে। তাই এটিকে প্রশাসন কর্তৃক উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়ার দাবি তাদের। প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীর ধারণা, পার্শ্ববর্তী রাবনাবাদ চ্যানেল হয়ে হয়তো এটি ভাসতে ভাসতে এ খালে এসেছে। এটির দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ২৫ ফুট।
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরই কোস্টগার্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং তাদের কাছে তাৎক্ষণিক ছবি পাঠানো হয়। কোস্টগার্ড ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে জানায় এটি টর্পেডো হতে পারে। তবে টর্পেডো ডুবন্ত থাকে। যেহেতু এটি ভেসে আসছে-তাহলে সম্ভবত ব্যবহৃত হতে পারে। তারপরও ঘটনাস্থলে গিয়ে কোস্টগার্ড বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে।
এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড রাঙ্গাবালী আউটপোস্টের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের আন্ধারমানিক নদীতে যে টিমটি আছে সেটি ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। যতটুকু আমি দেখলাম ওটা টর্পেডো হতে পারে, মিসাইল না। টর্পেডোর মাঝখানে যেভাবে জোড়া থাকে, ওটারও আছে। যেকোনো বড় জাহাজ ধ্বংস করে দেওয়ার কাজে টর্পেডো ব্যবহার হয়। এটা নৌবাহিনীর কাছে আছে।
তিনি আরো বলেন, টর্পেডো অনেক ভারী থাকে। সাধারণত এটা পানির নিচে থাকে। যেহেতু এটি ভেসে আসছে, সুতরাং ব্যবহার হয়েছে কিংবা ড্যামেজ হয়েছে বলে ধারণা করছি। তাই পানিতে ভেসে ভেসে আসছে। তবে যদি ভেতরে কোন বাতাস থাকে তাহলে বিস্ফোরণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য বোম ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে ওটা পরীক্ষা করে দেখতে পারে। আমাদের যে টিম ঘটনাস্থলে গেছে তার রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, টর্পেডো হচ্ছে এক ধরনের স্ব-চালিত অস্ত্র। যা পানির নিচে বিস্ফোরক ওয়ারহেড বহন করে এবং লক্ষবস্তুর সংষ্পর্শে বা কাছাকাছি আসার পর বিস্ফোরিত হতে পারে। এটি পানির নিচে চালিত হয় এবং পানির নিচে বা উপরে উভয় স্থান হতে নিক্ষেপ করা যায়। এগুলোকে বিভিন্ন প্রকারের উৎক্ষেপকের দ্বারা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব।


















