বাউফলে চেক-স্বাক্ষর জালিয়াতিতে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ, ফেরত দিলেন ব্যাংক ম্যানেজার
- আপডেট সময় : ০৪:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী রূপালী ব্যাংক শাখায় চেক ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে এক গ্রাহকের হিসাব থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর গ্রাহক পারুলকে ওই টাকা ফেরত দিয়েছেন শাখা ব্যবস্থাপক মামুন। তবে টাকা ফেরত দেওয়া হলেও ঘটনার তদন্ত কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী পারুল কালিশুরীতে বেসরকারি সংস্থা স্লোব-বাংলাদেশের কার্যালয়ে স্বল্প বেতনে চাকরি করেন। তার অভিযোগ, কষ্ট করে জমানো টাকা তিনি কালিশুরী রূপালী ব্যাংক শাখায় জমা রেখেছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি নতুন চেক ইস্যু ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে তার হিসাব থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।
পারুল জানিয়েছেন, হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রথমে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনো সমাধান পাননি। পরে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর শাখা ব্যবস্থাপক মামুন তাকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন।
পারুলের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা ফেরত দেওয়ার সময় ব্যবস্থাপক তাকে বলেছেন, ‘এই টাকা আমি নিজের থেকে দিয়েছি। এ নিয়ে জানাজানি হলে ব্যাংকের সুনাম নষ্ট হয়ে যাবে।’
ভুক্তভোগী পারুল বলেছেন, টাকা ফেরত পেলেও তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান। তার দাবি, কীভাবে চেক ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হলো, তা খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও গ্রাহক এমন ঘটনার শিকার হতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিশুরী রূপালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মামুন বলেছেন, পারুলের টাকার ব্যাপারে সমাধান হয়ে গেছে।
কীভাবে ঘটনার সমাধান হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, পারুলের ছেলে ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছেন এবং বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে। তবে পারুলের ছেলে টাকা তুলে থাকলে ব্যবস্থাপক কেন নিজের টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। পরে কথা বলবেন জানিয়ে তিনি তখন চিকিৎসকের কাছে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে পটুয়াখালী রূপালী ব্যাংকের জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মনজুর হোসেন বলেছেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











