ঢাকা ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে পুলিশের সামনে আসামীকে মারধর করে পা ভেঙ্গে দিয়েছে বাদির পক্ষের লোকজন

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৭৪১ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালী বাউফলে পুলিশের সামনে একটি মামলার আসামীকে মারধর করে পা ভেঙ্গে দিয়েছে বাদি পক্ষের লোকজন। শুধু তাই নয়, ওই আসামীকে চ্যংদোলা করে একটি ডোবার পানিতে নিক্ষেপ করা হয়। আসামীর নাম কবির খান(৩৭)। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ মার্চ ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়েনর নং ওয়ার্ডে সুলতানাবাদ মাদরাসার দক্ষিণ পাশে ঘটনা ঘটে আহত মোঃ কবির খান(৩৭) ওই গ্রামের শরিফ আলী খাঁনের ছেলে

হামলার শিকার আসামী কবিরের খানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, বাড়ির একটি গাছ নিয়ে প্রতিপক্ষ শাহজাহান খানের সাথে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। গত ২২ এপ্রিল তার স্বামী কবির খান টিউবওয়েলে পানি আনতে গেলে প্রতিপক্ষ শাহজাহান খানের ছেলে সোহেলে খানের সাথে তার তর্ক বিতর্ক হয়। এসময় সোহেল খান তার স্বামীর হাতে কামড় দিলে তার মাথায় থাকায় পানি ভর্তি কলসটি সোহেল খানের মাথায় পরে কেটে যায়। এ ঘটনায় ওই দিন সোহেল খান তাকেসহ তার শ্বশুর শরীফ আলী খান (৫৫), শ্বাশুরী রানী বেগম(৫৫), তার স্বামী কবির খান(৩৭), দেবর সবুজ খান(৩২) আসামী করে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দিন বুধবার দুপুরে প্রতিপক্ষ শাহজাহান খানের সোহেল খান থানায় গিয়ে এসআই নজরুল ইসলাসহ কয়েকজন পুলিশ বাড়িতে নিয়ে আসে। পুলিশ এসে তার শ্বশুর শরিফ আলী খান ও দেবর সবুজ খানকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার স্বামী পুলিশের ভয়ে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষ শাহজাহান খানের বড় ছেলে সহিদুল, সোহেল ও ভগ্নিপতি রুহুল আমিনসহ ৭-৮ জন তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে তাকে ধরে বেধরক মারধর করেন এবং পিটিয়ে বাম পা ভেঙ্গে দেয়। এরপর তাকে চ্যাংদোলা করে পাশে একটি ডোবার পুকুরে নিক্ষেপ করে। এসময় তার বৃদ্ধ মা অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও তারা এগিয়ে আসেননি। তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। পরে আহত অবস্থায় তার স্বামীকে উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

প্রতিপক্ষ শাহজাহান খানের ছেলে সহিদুল হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কবির খানের সাথে একটি গাছ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ২২ এপ্রিল কবির খানের নেতৃত্বে তার ভাই সোহেল খানকে মারধর করে জখম করে। এ ঘটনায় মামলা হলে বুধবার দুপুরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য বাড়ি এলে দৌঁড়ে পালাতে গিয়ে কবির খানের পা ভেঙ্গে যায়।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন,একটি মামলার দুই আসামী গ্রেপ্তার করে পুলিশ থানা নিয়ে আসার পর আমরা খবর পাই বাদী ও আসামীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আর এতে একজনের পা ভেঙ্গে গেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে মারামারির ঘটনা সত্য নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাউফলে পুলিশের সামনে আসামীকে মারধর করে পা ভেঙ্গে দিয়েছে বাদির পক্ষের লোকজন

আপডেট সময় : ০৫:৪২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

পটুয়াখালী বাউফলে পুলিশের সামনে একটি মামলার আসামীকে মারধর করে পা ভেঙ্গে দিয়েছে বাদি পক্ষের লোকজন। শুধু তাই নয়, ওই আসামীকে চ্যংদোলা করে একটি ডোবার পানিতে নিক্ষেপ করা হয়। আসামীর নাম কবির খান(৩৭)। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ মার্চ ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়েনর নং ওয়ার্ডে সুলতানাবাদ মাদরাসার দক্ষিণ পাশে ঘটনা ঘটে আহত মোঃ কবির খান(৩৭) ওই গ্রামের শরিফ আলী খাঁনের ছেলে

হামলার শিকার আসামী কবিরের খানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, বাড়ির একটি গাছ নিয়ে প্রতিপক্ষ শাহজাহান খানের সাথে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। গত ২২ এপ্রিল তার স্বামী কবির খান টিউবওয়েলে পানি আনতে গেলে প্রতিপক্ষ শাহজাহান খানের ছেলে সোহেলে খানের সাথে তার তর্ক বিতর্ক হয়। এসময় সোহেল খান তার স্বামীর হাতে কামড় দিলে তার মাথায় থাকায় পানি ভর্তি কলসটি সোহেল খানের মাথায় পরে কেটে যায়। এ ঘটনায় ওই দিন সোহেল খান তাকেসহ তার শ্বশুর শরীফ আলী খান (৫৫), শ্বাশুরী রানী বেগম(৫৫), তার স্বামী কবির খান(৩৭), দেবর সবুজ খান(৩২) আসামী করে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দিন বুধবার দুপুরে প্রতিপক্ষ শাহজাহান খানের সোহেল খান থানায় গিয়ে এসআই নজরুল ইসলাসহ কয়েকজন পুলিশ বাড়িতে নিয়ে আসে। পুলিশ এসে তার শ্বশুর শরিফ আলী খান ও দেবর সবুজ খানকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার স্বামী পুলিশের ভয়ে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষ শাহজাহান খানের বড় ছেলে সহিদুল, সোহেল ও ভগ্নিপতি রুহুল আমিনসহ ৭-৮ জন তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে তাকে ধরে বেধরক মারধর করেন এবং পিটিয়ে বাম পা ভেঙ্গে দেয়। এরপর তাকে চ্যাংদোলা করে পাশে একটি ডোবার পুকুরে নিক্ষেপ করে। এসময় তার বৃদ্ধ মা অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও তারা এগিয়ে আসেননি। তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। পরে আহত অবস্থায় তার স্বামীকে উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

প্রতিপক্ষ শাহজাহান খানের ছেলে সহিদুল হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কবির খানের সাথে একটি গাছ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ২২ এপ্রিল কবির খানের নেতৃত্বে তার ভাই সোহেল খানকে মারধর করে জখম করে। এ ঘটনায় মামলা হলে বুধবার দুপুরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য বাড়ি এলে দৌঁড়ে পালাতে গিয়ে কবির খানের পা ভেঙ্গে যায়।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন,একটি মামলার দুই আসামী গ্রেপ্তার করে পুলিশ থানা নিয়ে আসার পর আমরা খবর পাই বাদী ও আসামীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আর এতে একজনের পা ভেঙ্গে গেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে মারামারির ঘটনা সত্য নয়।