ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচ বছর পরেও শেষ হয়নি সড়কের নির্মাণ কাজ, অগ্রিম তুলে নেয়া হয়েছে ৯৪ লক্ষ টাকা !

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩
  • / ৭১৮ বার পড়া হয়েছে
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ দীর্ঘ ৫ বছরেও শেষ হয়নি। অগ্রীম তুলে নেয়া হয়েছে ওই রাস্তার অনুকুলে বরাদ্ধের ৯৪ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা-কনকদিয়া-কাছিপাড়া সড়কের বৌলতলী বাজার ব্রিজ থেকে ৩ কিলোমিটার রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হয়। বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোহিনুর অ্যান্ড রুটস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেয়া হয় । ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে কার্যাদেশ দেয়া হয়। রাস্তার নির্মাণ ব্যায় ধরা হয় ২ কোটি ৩৩ লাখ ৮ হাজার ৫শ টাকা । প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের ৩০ জুন।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি নির্মানের কাজ পাঁচ বছর আগে শুরু হলেও শেষ হয়নি চার ভাগের একভাগ কাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই কাজ করা নিয়ে গাফিলতি করে আসছে। কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ এই সড়কটি। তবে এতদিন পরেও কাজ ফেলে রাখা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন ব্যাবস্থা। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর ঈদুল ফিতরের আগে মাত্র অর্ধ-কিলোমিটার সড়কে খোয়া ফেলে উধাও হয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে রাস্তায় যে খোয়া ফেলা হয়েছে সেখানেও ব্যাবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এলাকার মানুষসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাওয়া আসায় পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহীন হাওলাদার বলেন, ‘ মিল্টন নামের এক ঠিকাদার এর আগেও দু’টি প্রকল্পের কাজ নিয়ে গাফিলতি করেছে এবং দীর্ঘদিন ফেলেও রেখেছিলেন। তারপরও তাকে ফের কাজ দেওয়া হয়েছে কেন এটা আমার বুঝে আসছে না। তার মতো ঠিকাদারকে কাজ দেয় আজ কয়েকটি এলাকার জনমানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এলাকার মানুষ এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায়’।

বরিশাল কোহিনুর অ্যান্ড রুটস্ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ঠিকাদার মোঃ মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, ‘করোনার মহামারী ও আম্পানসহ প্রাকৃতিক দূরে‌্যাগে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। শিগগিরিই এ কাজটি সম্পন্ন করে ফেলবো’।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ লতিফ হোসেন বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না আপনি কোন সড়কের কথা বলছেন। একটু কষ্ট করে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করেন।’

এ ব্যাপারে জানতে বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান হোসেনকে একাধিকবার  তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পাঁচ বছর পরেও শেষ হয়নি সড়কের নির্মাণ কাজ, অগ্রিম তুলে নেয়া হয়েছে ৯৪ লক্ষ টাকা !

আপডেট সময় : ১১:৪৬:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ দীর্ঘ ৫ বছরেও শেষ হয়নি। অগ্রীম তুলে নেয়া হয়েছে ওই রাস্তার অনুকুলে বরাদ্ধের ৯৪ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা-কনকদিয়া-কাছিপাড়া সড়কের বৌলতলী বাজার ব্রিজ থেকে ৩ কিলোমিটার রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হয়। বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোহিনুর অ্যান্ড রুটস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেয়া হয় । ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে কার্যাদেশ দেয়া হয়। রাস্তার নির্মাণ ব্যায় ধরা হয় ২ কোটি ৩৩ লাখ ৮ হাজার ৫শ টাকা । প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের ৩০ জুন।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি নির্মানের কাজ পাঁচ বছর আগে শুরু হলেও শেষ হয়নি চার ভাগের একভাগ কাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই কাজ করা নিয়ে গাফিলতি করে আসছে। কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ এই সড়কটি। তবে এতদিন পরেও কাজ ফেলে রাখা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন ব্যাবস্থা। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর ঈদুল ফিতরের আগে মাত্র অর্ধ-কিলোমিটার সড়কে খোয়া ফেলে উধাও হয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে রাস্তায় যে খোয়া ফেলা হয়েছে সেখানেও ব্যাবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এলাকার মানুষসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাওয়া আসায় পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহীন হাওলাদার বলেন, ‘ মিল্টন নামের এক ঠিকাদার এর আগেও দু’টি প্রকল্পের কাজ নিয়ে গাফিলতি করেছে এবং দীর্ঘদিন ফেলেও রেখেছিলেন। তারপরও তাকে ফের কাজ দেওয়া হয়েছে কেন এটা আমার বুঝে আসছে না। তার মতো ঠিকাদারকে কাজ দেয় আজ কয়েকটি এলাকার জনমানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এলাকার মানুষ এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায়’।

বরিশাল কোহিনুর অ্যান্ড রুটস্ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ঠিকাদার মোঃ মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, ‘করোনার মহামারী ও আম্পানসহ প্রাকৃতিক দূরে‌্যাগে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। শিগগিরিই এ কাজটি সম্পন্ন করে ফেলবো’।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ লতিফ হোসেন বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না আপনি কোন সড়কের কথা বলছেন। একটু কষ্ট করে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করেন।’

এ ব্যাপারে জানতে বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান হোসেনকে একাধিকবার  তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।