গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতার বিয়েতে ‘ডিজেল উপহার’
- আপডেট সময় : ০১:১৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
- / ৬৮ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর দুমকীতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতার বিয়ের আয়োজন ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিয়েতে প্রচলিত উপহারের পরিবর্তে অতিথিরা বরের হাতে প্রতীকীভাবে ডিজেল তুলে দেন।
মঙ্গলবার বিকেলে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমের বিয়ের অনুষ্ঠানে ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ডিজেলভর্তি একটি পাত্র উপহার দেন।
বিয়ে ঘিরে এই ব্যতিক্রমী উপহারটি আলোচনায় আসে একই দিন রাত ১০টার দিকে গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে। ফেসবুক পোস্টে ছবিটি প্রচার করে তিনি লেখেন, “তৈলের তীব্র সংকট মোকাবেলায় নতুন জামাই-বউকে তৈল মর্দন।” এরপরই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সংগঠনটির পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. মহসিন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল মৃধাসহ জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে একটি ৫ লিটারের পাত্রে প্রায় ৩ লিটার ডিজেল ভরে বর ও কনের হাতে তুলে দেন। এ সময় তারা উপস্থিত অতিথিদের সামনে প্রতীকীভাবে এই উপহার প্রদান করেন, যা জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা তুলে ধরার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ফারুক হুসাইনের ছেলে ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এবং উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমের সঙ্গে একই উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের মরহুম মো. শহিদুল ইসলাম খানের মেয়ে শারমিন স্বর্ণার বিবাহ অনুষ্ঠানে এ ব্যতিক্রমধর্মী উপহার প্রদান করা হয়।
বিয়েতে আগত ডিজেল উপহার প্রদানকারী অতিথিদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ সীমিত থাকায় কৃষি, মৎস্য ও পরিবহন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকেরা সেচ দিতে পারছেন না, জেলেরা নদীতে যেতে পারছেন না। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষও চাপে পড়েছেন। পাশাপাশি খুচরা বাজারে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ফলে ডিজেল এখন শুধু জ্বালানি নয়, মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে।
বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে এমন ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান বিয়েতে আগত ডিজেল উপহার প্রদানকারী অতিথিরা।
ছাত্র গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. মহসিন ইসলাম বলেন, আমরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছি। আজ দেশের গ্রামাঞ্চলে ডিজেল সংকট যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ তৈরি করেছে। কৃষকেরা জমিতে সেচ দিতে পারছেন না, জেলেরা নদীতে যেতে পারছেন না, এমনকি পরিবহন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা নিজেরাও বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে তেল পাইনি। এই পরিস্থিতিতে বিয়ের মতো একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ডিজেল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে আমরা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি। এটি কোনো ব্যতিক্রম দেখানোর জন্য নয়; বরং একটি বার্তা-জ্বালানি সংকট এখন মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথি ও ছাত্র অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, শহিদুল ইসলাম ফাহিম ভাইয়ের বিয়েকে ঘিরে আমরা একটি বাস্তবতা তুলে ধরতে চেয়েছি। আজ ডিজেল শুধু জ্বালানি নয়, এটি কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। কিন্তু পটুয়াখালী ও দুমকি উপজেলার ৭টি ফিলিং স্টেশন ঘুরেও আমরা নিজেদের বাইকের জন্য তেল পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে খুচরা দোকান থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনেছি। এই বাস্তবতা থেকেই আমরা প্রতীকীভাবে ডিজেল উপহার দিয়েছি-যাতে সংকটটি সবার নজরে আসে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ব্যতিক্রমী উপহার বিয়ের অনুষ্ঠানে নতুনত্ব এনে দিয়েছে এবং একই সঙ্গে সমাজের বাস্তব পরিস্থিতিরও প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে সৃজনশীল ও সময়োপযোগী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বর্তমান সংকটের প্রতিচ্ছবি বলেও মন্তব্য করেছেন।










