ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগ ও পর্যটনের জন্য কেন প্রয়োজন পটুয়াখালীতে বিমানবন্দর বাউফলে লঞ্চঘাটে লঞ্চের চাপে কিশোর আহত বাউফলে তরমুজ চুরির অপবাদে কৃষক নির্যাতনের পর মৃত্যু বাউফলে সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ, দুই যুবককে পিটিয়ে গুরুতর জখম গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতার বিয়েতে ‘ডিজেল উপহার’ বাউফলের সাবেক এমপিকে নিয়ে বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করলেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাউফলে যুবলীগ নেতার বাসায় ইফতার আয়োজন ঘিরে বিতর্ক, পুলিশের অভিযান বাউফলে কুরিয়ার কর্মীকে ছুরিকাঘাত করে ৮৫ হাজার টাকা ছিনতাই ​বাউফলে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দশমিনায় ভিজিএফের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে

দশমিনায় ভিজিএফের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / ১১৯ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারি বরাদ্দের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা থাকলেও অনেক উপকারভোগী নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বহরমপুর ইউনিয়নের ২ হাজার ৬৪৫ জন অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য মোট ২৬ টন ৪৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৯ জন ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এস. এম. আরিফ হোসেনের নির্দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ খান ইউপি সদস্যদের মধ্যে চাল বণ্টন করে দেন।

সোমবার সকাল থেকে চাল বিতরণ শুরু হলে কয়েকটি ওয়ার্ডে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু স্থানে ৫ জনকে একটি ৩০ কেজির বস্তা চাল দেওয়া হয়েছে। ফলে জনপ্রতি নির্ধারিত ১০ কেজির পরিবর্তে প্রায় ৬ কেজির মতো চাল পেয়েছেন অনেকেই। এতে করে প্রতি ব্যক্তির প্রায় ৪ কেজি করে চাল কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের সব উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকটি স্থানে ৫ জনকে ৩০ কেজির একটি বস্তা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সুখি বেগম এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল জানান, তাদের ওয়ার্ডে জনসংখ্যার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় নির্ধারিত পরিমাণে চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যারা এসেছেন, তাদের সবার মধ্যে সমানভাবে চাল ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী মুন্নি বেগম ও আল আমিন বলেন, সরকার আমাদের ১০ কেজি করে চাল দিলেও সুখি মেম্বার ৫ জনকে একটি ৩০ কেজির বস্তা দিয়ে বলেছেন এর বেশি নেই। আমরা গরিব মানুষ, তাই কিছু বলতেও পারি না।

এছাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের নিজিম, মোসলেম ও বেগম বলেন, ১০ কেজি দেওয়ার কথা থাকলেও তারা প্রায় ৬ কেজির মতো চাল পেয়েছেন। প্রতিবাদ করলে মেম্বাররা রাগ দেখান বলে অভিযোগ করেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে বহরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ খান বলেন, ইউপি সদস্যদের সমহারে চাল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ কম দিয়ে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বিষয়। বরাদ্দের তুলনায় উপকারভোগী বেশি হলে এমনটি হতে পারে।

বহরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এস. এম. আরিফুর রহমান বলেন, ইউনিয়নের ২ হাজার ৬৪৫ জন উপকারভোগীর নামে জনপ্রতি ১০ কেজি হিসেবে মোট ২৬ টন ৪৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ইউপি সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চাল কম দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দশমিনায় ভিজিএফের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৮:০১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারি বরাদ্দের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা থাকলেও অনেক উপকারভোগী নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বহরমপুর ইউনিয়নের ২ হাজার ৬৪৫ জন অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য মোট ২৬ টন ৪৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৯ জন ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এস. এম. আরিফ হোসেনের নির্দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ খান ইউপি সদস্যদের মধ্যে চাল বণ্টন করে দেন।

সোমবার সকাল থেকে চাল বিতরণ শুরু হলে কয়েকটি ওয়ার্ডে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু স্থানে ৫ জনকে একটি ৩০ কেজির বস্তা চাল দেওয়া হয়েছে। ফলে জনপ্রতি নির্ধারিত ১০ কেজির পরিবর্তে প্রায় ৬ কেজির মতো চাল পেয়েছেন অনেকেই। এতে করে প্রতি ব্যক্তির প্রায় ৪ কেজি করে চাল কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের সব উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকটি স্থানে ৫ জনকে ৩০ কেজির একটি বস্তা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সুখি বেগম এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল জানান, তাদের ওয়ার্ডে জনসংখ্যার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় নির্ধারিত পরিমাণে চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যারা এসেছেন, তাদের সবার মধ্যে সমানভাবে চাল ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী মুন্নি বেগম ও আল আমিন বলেন, সরকার আমাদের ১০ কেজি করে চাল দিলেও সুখি মেম্বার ৫ জনকে একটি ৩০ কেজির বস্তা দিয়ে বলেছেন এর বেশি নেই। আমরা গরিব মানুষ, তাই কিছু বলতেও পারি না।

এছাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের নিজিম, মোসলেম ও বেগম বলেন, ১০ কেজি দেওয়ার কথা থাকলেও তারা প্রায় ৬ কেজির মতো চাল পেয়েছেন। প্রতিবাদ করলে মেম্বাররা রাগ দেখান বলে অভিযোগ করেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে বহরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ খান বলেন, ইউপি সদস্যদের সমহারে চাল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ কম দিয়ে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বিষয়। বরাদ্দের তুলনায় উপকারভোগী বেশি হলে এমনটি হতে পারে।

বহরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এস. এম. আরিফুর রহমান বলেন, ইউনিয়নের ২ হাজার ৬৪৫ জন উপকারভোগীর নামে জনপ্রতি ১০ কেজি হিসেবে মোট ২৬ টন ৪৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ইউপি সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চাল কম দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।