বিনিয়োগ ও পর্যটনের জন্য কেন প্রয়োজন পটুয়াখালীতে বিমানবন্দর
- আপডেট সময় : ০৬:০২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / ৭৫ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পটুয়াখালীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু জেলার নয়, পুরো দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন, শিল্প, জরুরি সেবা এবং দ্রুত যাতায়াত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এর প্রভাব বড় হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পটুয়াখালীতে আগে একটি ছোট এয়ারফিল্ড নির্মাণ করা হয়েছিল, যা মূলত কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও পরবর্তীতে এটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর হিসেবে উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়। তবে অর্থসংকটসহ নানা কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে আছে এবং বর্তমানে এটি পুরোপুরি চালু নয়।
পর্যটনে নতুন গতি
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানে বিমানবন্দর চালু হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য যাতায়াত অনেক সহজ হবে। ইতোমধ্যে কুয়াকাটা এলাকায় নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করতে সরকারি পর্যায়ে জরিপও শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি আকাশপথ চালু হলে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অর্থনীতি ও শিল্পে সম্ভাবনা
পটুয়াখালীতে এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (EPZ) গড়ে উঠছে, যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ থাকলে পণ্য পরিবহন, বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সহজ হবে।
এছাড়া পায়রা সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দক্ষিণাঞ্চলের বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর সঙ্গে একটি বিমানবন্দর যুক্ত হলে অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
দক্ষিণাঞ্চল ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অতীতে বড় ঘূর্ণিঝড়ের সময় এই অঞ্চলের এয়ারস্ট্রিপ ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করেছে বলে জানা যায়।
দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ
বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক মানুষকে আকাশপথে ভ্রমণের জন্য বরিশাল বা ঢাকায় যেতে হয়। যদিও বরিশাল বিমানবন্দর দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে, তবুও পটুয়াখালীতে আলাদা বিমানবন্দর হলে যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং আঞ্চলিক সংযোগ বাড়বে।










