ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাউফলে ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার বাউফলে নির্মিত হচ্ছে ‘ভালোবাসি বাউফল’ পার্ক, বাড়বে শহরের সৌন্দর বাউফলে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু, পরিচয় শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা বাউফলে সাইকেলে সাংগঠনিক পথচলা ইউনিয়ন আমীর ও সেক্রেটারি, খুবই সাধারণ জীবনযাপন, নেই দল ও এমপির প্রতি কোনো অভিযোগ বাউফলে চোরাই দুই মহিষ উদ্ধার, ‘দাদা চোর চক্রের’ দুই সদস্য আটক WordCamp Central: WordCamp Sylhet 2026: No Swag, All Heart বাউফলের সূর্যমণি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদুর রহমান বাউফলে শনিবার সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে WPBeginner Spotlight 29: WPVibe Passes 100,000 Users, OptinMonster MCP, and an Urgent PHP Fix বাউফলে গালাগালিকে কেন্দ্র করে নারীদের সংঘর্ষ, আহত ৩

বাউফলে তরমুজ চাষীরা দিশেহারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:১৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৩
  • / ৪৩৯ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফলে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি ও অজানা  ভাইরাসের কারণে চাষীরা দিশেহারা হয়ে পরেছেন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির তরমুজ। লোকসান গুনতে হতে পারে অন্তত ৫শতাধিক কৃষক পরিবারকে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মোট ৩ হাজার হেক্টর জমিতে চলতি বছরের তরমুজ চাষ করা হয়েছে। যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুন। প্রথম থেকে গাছের অবস্থা দেখে চাষীরা লাভের মুখ দেখবেন বলে জানিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১হাজার হেক্টর জমির আগাম জাতের পাকা তরমুজ বিক্রিও করেছেন তারা। এতে চাষীদের মধ্যে  কিছুটা স্বস্তিও মিলেছে। কিন্তু রেগুলার জাতের তরমুজ এখনও পাকে নি। 
গত কয়েক দিনের বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে তৈরি হয়েছে জটিলতা। হুমকির মুখে রয়েছে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির তরমুজ। অজানা এক ধরণের ভাইরাস আক্রমন করেছে রসালো এই ফলের গাছে। গাছের পাতাগুলো প্রথমে লালচে এবং আস্তে আস্তে শুকিয়ে গাছ মরে যাচ্ছে। ফলে আর বড় হচ্ছে না ফল। তরমুজের উপর এক ধরনের তিল পড়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। ওষুধ  ছিটিয়েও সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে লোকসান এড়াতে কিছু চাষী তরমুজ ছোট  থাকতেই বিক্রি করছেন । তাতে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষী।
মমিনপুর চরের চাষী সাগর হোসেন বলেন, এবছর আমি প্রায় ৩০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ১০ একর জমির ফসল ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। ১০ একর জমির আংশিক তরমুজ বিক্রি করতে পেরেছি। গত কয়েকদিনের বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বাকি ১০ একর জমির তরমুজ আর বাচাতে পারবো কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি। কারণ গাছের পাতা মরে গিয়ে গাছগুলো সুকিয়ে যাচ্ছে। 
ভরিপাশার চর জাফরাবাজ এলাকার চাষী নিজাম হাওলাদার জানান, তিনিও প্রায় ২০একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। ভাইরাস ও বৃষ্টির ভয়ে তিনি ছোট বড় সকল সাইজের তরমুজ কেটে বিক্রি করতে শুরু করেছেন। কোন পাইকার নেই ক্ষেতে। তাই তিনি কার্গোতে মাল লোড দিচ্ছেন ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠাবেন বিক্রির জন্য। এতে ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। 
এব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা ফল বাঁচাতে সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। বৃষ্টিতে গাছের মূলে পানি জমে গাছের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাউফলে তরমুজ চাষীরা দিশেহারা!

আপডেট সময় : ০২:১৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৩

পটুয়াখালীর বাউফলে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি ও অজানা  ভাইরাসের কারণে চাষীরা দিশেহারা হয়ে পরেছেন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির তরমুজ। লোকসান গুনতে হতে পারে অন্তত ৫শতাধিক কৃষক পরিবারকে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মোট ৩ হাজার হেক্টর জমিতে চলতি বছরের তরমুজ চাষ করা হয়েছে। যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুন। প্রথম থেকে গাছের অবস্থা দেখে চাষীরা লাভের মুখ দেখবেন বলে জানিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১হাজার হেক্টর জমির আগাম জাতের পাকা তরমুজ বিক্রিও করেছেন তারা। এতে চাষীদের মধ্যে  কিছুটা স্বস্তিও মিলেছে। কিন্তু রেগুলার জাতের তরমুজ এখনও পাকে নি। 
গত কয়েক দিনের বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে তৈরি হয়েছে জটিলতা। হুমকির মুখে রয়েছে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির তরমুজ। অজানা এক ধরণের ভাইরাস আক্রমন করেছে রসালো এই ফলের গাছে। গাছের পাতাগুলো প্রথমে লালচে এবং আস্তে আস্তে শুকিয়ে গাছ মরে যাচ্ছে। ফলে আর বড় হচ্ছে না ফল। তরমুজের উপর এক ধরনের তিল পড়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। ওষুধ  ছিটিয়েও সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে লোকসান এড়াতে কিছু চাষী তরমুজ ছোট  থাকতেই বিক্রি করছেন । তাতে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষী।
মমিনপুর চরের চাষী সাগর হোসেন বলেন, এবছর আমি প্রায় ৩০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ১০ একর জমির ফসল ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। ১০ একর জমির আংশিক তরমুজ বিক্রি করতে পেরেছি। গত কয়েকদিনের বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বাকি ১০ একর জমির তরমুজ আর বাচাতে পারবো কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি। কারণ গাছের পাতা মরে গিয়ে গাছগুলো সুকিয়ে যাচ্ছে। 
ভরিপাশার চর জাফরাবাজ এলাকার চাষী নিজাম হাওলাদার জানান, তিনিও প্রায় ২০একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। ভাইরাস ও বৃষ্টির ভয়ে তিনি ছোট বড় সকল সাইজের তরমুজ কেটে বিক্রি করতে শুরু করেছেন। কোন পাইকার নেই ক্ষেতে। তাই তিনি কার্গোতে মাল লোড দিচ্ছেন ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠাবেন বিক্রির জন্য। এতে ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। 
এব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা ফল বাঁচাতে সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। বৃষ্টিতে গাছের মূলে পানি জমে গাছের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।