শিশু নিরাপত্তায় এখনই উদ্যোগ দরকার:অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী স্বপন
- আপডেট সময় : ০১:০৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া-ঢাকা নৌরুটে চলাচলকারী ‘এমভি বন্ধন-৫’ লঞ্চে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে একটি অসহায় শিশুকে ঘিরে। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা লঞ্চটি সন্ধ্যায় ধুলিয়া ঘাটে নোঙর করলে শিশুটির সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি নিজেকে তার বাবা পরিচয় দিয়ে ঘাটে নামেন। তিনি জানান, শিশুর মা ঘাটে রয়েছেন, তাকে নিয়ে আসতে যাচ্ছেন। সাময়িকভাবে শিশুটিকে অন্য যাত্রীদের তত্ত্বাবধানে রেখে তিনি নেমে গেলেও আর ফিরে আসেননি।
পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ওই ব্যক্তির কোনো খোঁজ না মেলায় বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। লঞ্চটি ধুলিয়া ও দীঘিরপাড় ঘাট ছেড়ে যাওয়ার পরও তিনি ফিরে না আসায় শিশুটিকে উদ্ধার করে লঞ্চের স্টাফ ও যাত্রীরা নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেন। বর্তমানে শিশুটির কোনো অভিভাবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। পটুয়াখালী জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী স্বপন নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্টে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজের ক্রমবর্ধমান অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের প্রতি নির্মম আচরণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশু হত্যা, সৎ মা-বাবার নির্যাতন, পরকীয়ার জেরে সন্তানদের অবহেলা কিংবা ত্যাগ এসব ঘটনা সমাজকে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে বয়সে শিশুদের আনন্দে বড় হওয়ার কথা, সে সময়েই অনেক শিশু অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। পরিবার ও সমাজের যথাযথ যত্ন না পেয়ে এসব শিশুরা পরবর্তীতে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। অসাধু চক্রগুলোও তাদের সহজেই ব্যবহার করে থাকে।
অ্যাডভোকেট স্বপন এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ন ও কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের মাধ্যমে এসব বিষয় ব্যাপকভাবে প্রচার করা জরুরি, যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষ সচেতন হয়ে ওঠে।
লঞ্চে ফেলে যাওয়া অজ্ঞাত এই শিশুর ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আমাদের সামাজিক বাস্তবতার একটি কঠিন প্রতিচ্ছবি। এখনই উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।










